কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:২৪ এএম
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ
বিদ্যুতের ভর্তুকি

২৪ ব্যাংকের ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকার বিশেষ বন্ড 

প্রতীকী ছবি।
প্রতীকী ছবি।

বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি বাবদ অর্থ পরিশোধে ২৪টি ব্যাংকের সঙ্গে বন্ড ইস্যুর বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই করেছে অর্থ বিভাগ। বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যুৎ ভবনে ২৪ ব্যাংক, পাওনাদার বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি ও বিদ্যুৎ বিভাগের মধ্যে এ চুক্তি সই হয়। অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিল বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের (আইপিপি) বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা। সরকারের কাছে বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না। ফলে অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ঋণের বিপরীতে ১২ হাজার কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করা হবে। বুধবার নতুন করে ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত হলো।

সূত্র বলছে, বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির অর্থ পরিশোধে ২৪ ব্যাংকের এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে মোট অর্থের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। বুধবার বন্ড ইস্যুর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হতে পারে। এরপর আগামী ৩-৪ কর্মদিবসের মধ্যে এই বন্ড ইস্যু করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, ২৪টি ব্যাংক বন্ড ইস্যুর বিষয়ে সম্মত হয়ে এমওইউ স্বাক্ষর করেছে। তবে কোন কোন ব্যাংক এতে সম্মত হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হলেই আমরা বন্ড ইস্যুর ব্যবস্থা করবো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন সংকটের কারণে অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঋণ ইতোমধ্যেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এসব ঋণ খেলাপি হয়ে পড়লে ব্যাংকগুলোকে বিপদে পড়তে হবে। কারণ দেশের বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোয় ব্যাংকগুলোর বড় অংকের অর্থায়ন রয়েছে। এ অবস্থায় বিশেষ বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও ব্যাংকগুলোকে সাময়িক স্বস্তি দিতে চাইছে সরকার। এজন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ঋণের বিপরীতে ১২ হাজার কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করা হবে। এ অর্থের পরিমাণ কিছুটা কমতেও পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

তথ্য বলছে, বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে অর্থায়নকারী ব্যাংকগুলোর অনুকূলে বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের বিপরীতে প্রথমে বিশেষ ট্রেজারি বন্ড ইস্যু করবে। ব্যাংকগুলো সেই বন্ড কিনে নেবে। ব্যাংকের কাছ থেকে বন্ড কেনা বাবদ সরকার যে টাকা পাবে, সেটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে পরিশোধ করে দেবে। তখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সে অর্থ আবার ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করে দেবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণগুলো খেলাপি হওয়ার হাত থেকে বেচে যাবে এবং এর বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হবে না। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো বন্ডের অর্থের সমপরিমাণ বিধিবদ্ধ জমার (এসএলআর) বাধ্যবাধকতাও পূরণে ব্যবহার করতে পারবে।

এছাড়া ব্যাংকগুলো এ বন্ড কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা রেখে রেপোর মাধ্যমে তারল্য সুবিধাও নিতে পারবে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বকেয়া বিলের পুরো অর্থ না পেলে বন্ডের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যয় করতে পারবে এবং এতে করে প্রতিষ্ঠানগুলোর দায় কমে আসবে ও খেলাপি হওয়ার হাত থেকে রেহাই পাবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সেলস অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে ওয়ালটন

৭ ডিগ্রির ঘরে তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা, বইছে শৈত্যপ্রবাহ

আমান আযমীকে কী বললেন তারেক রহমান 

পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষ মাঝখানে দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে : মুন্না 

৫০০ টাকার জন্য খুন, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বৈঠক: মতবিরোধের আড়ালে ক্ষমতার রাজনীতি

আংশিক মেঘলা ঢাকার আকাশ, তাপমাত্রা কত?

গ্যাস সংকটে বেশি বিপাকে চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

আবেদনের শর্ত পূরণ ছাড়াই খুবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি

চাঁদপুর-৪ / বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

১০

ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

১১

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় প্রকৌশলীকে মারধর

১২

শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল 

১৩

বিএনপির প্রার্থীকে শোকজ

১৪

সময় বাঁচাতে সকালে রোজ পাউরুটি খাচ্ছেন, শরীরে যে প্রভাব পড়ছে

১৫

নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা আসিফ গ্রেপ্তার

১৬

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

১৭

ব্যাডমিন্টন খেলা শেষে বাড়ি ফেরা হলো না ২ তরুণের

১৮

১৫ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৯

ব্র্যাকে চাকরির সুযোগ

২০
X