সম্রাট আর ফয়সাল দুই ভাই। ছোট ভাই সম্রাট দুবাই, আর বড় ভাই আল ফয়সাল থাকেন চট্টগ্রামে। তারা দুই ভাই এবং তাদের সঙ্গীরা মিলে অনলাইনে গড়ে তুলেছেন প্রতারণা চক্র। যেখানে সহযোগী হিসেবে রয়েছেন তাদের মা আরেফা বেগম এমনকি প্রতিবেশী বেলালসহ আরও অনেকে। সবাই মিলে নিপুণ কৌশলে গত দুই মাসে দেশ থেকে পাচার করেছেন কোটি কোটি টাকা। অবিশ্বাস্য হলেও অনলাইনে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর এমনটাই জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরেফা বেগম, ফয়সাল ও নিজাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পুলিশ জানায়, চক্রের একজন প্রধান হলেন হাটহাজারীর সম্রাট আরেকজন সাতকানিয়ার মান্নান। এর মধ্যে সম্রাট দুবাই থাকেন। ওয়েবসাইটে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। এ নিয়ে এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হয় পুলিশ।
জানা গেছে, প্রথম ধাপে ইংরেজি জানা লোকদের টার্গেট করে এ চক্র। এরপর ‘ফরচুন মিক্স’ নামের একটি ওয়েবসাইটে আউটসোর্সিংয়ে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হোয়াটস অ্যাপে তাকে পাঠানো হয় লিঙ্ক। সেখানে আইডি খোলার পর ভিকটিমদের বলা হয় কাজ অনুযায়ী অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হচ্ছে। শিগগিরই পেমেন্ট করা হবে। কিন্তু কাজ শেষে প্রতারক চক্র জানায়, অনলাইনে কাজ করতে গিয়ে কিছু ভুল হয়েছে, তার জন্য ভিকটিমকে প্রিপেমেন্ট করতে হবে। এভাবে দেশব্যাপী প্রতারণার মাধ্যমে চক্রটি কোটি কোটি টাকা দুবাইয়ে পাচার করেছে।
চক্রের সদস্যদের ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় গত দুই মাসে অন্তত ৫ কোটি টাকা পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুটি অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ও আরেকটি একাউন্টে ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা পাচারের তথ্য মিলেছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (ডিবি-বন্দর ও পশ্চিম) মোহাম্মদ আলী হোসেন কালবেলাকে বলেন, চাকরির পাশাপাশি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কিছু বাড়তি টাকা আয়ের আশায় অনেকেই প্রতারিত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিভিন্ন নামে ছদ্মবেশ ধারণ করে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ের কথা বলে অনলাইন প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ করতো চক্রটি। তারপর সেই টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হতো চক্রের সদস্যদের অ্যাকাউন্টে। হুন্ডি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া টাকা দুবাই পাচারের তথ্য মিলেছে। প্রতারক চক্রের অপর সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলমান বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য করুন