সোনাগাজীতে দিন-দুপুরে ডাকাতির সময় স্বর্ণ ব্যবসায়ী অর্জুন ভাদুড়ী হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। সোমবার (৬ নভেম্বর) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা-পরিদর্শক আবুল কাশেম ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোপত্রে নারীসহ ৯ ডাকাতের সম্পৃত্ততার তথ্য উঠে এসেছে। অভিযুক্তরা হলেন- ইয়াসিন মাল, রুবেল হাওলাদার, খালেদ হোসেন মিলন, শাওন হাওলাদার, মোহাম্মদ মনির, জাফর হাওলাদার, দুলাল চৌধুরী, রাকিব মাল ও শারমিন জাহান হ্যাপি। এরমধ্যে দুলাল চৌধুরী ও খালেদ হোসেন মিলন ফেনীর বাসিন্দা। অন্যরা পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা এবং তারা পরস্পরের আত্মীয়।
অভিযোগপত্রে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সোনাগাজীর স্থানীয় বাসিন্দা ঢাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী দুলাল চৌধুরীর নাম উঠে এসেছে। ঢাকা কেরানীগঞ্জের স্বর্ণ ডাকাতি মামলায় একত্রে কারাগারে থাকাকালীন দুলাল চৌধুরী ও ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের খালেদ হোসেন মিলন ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। পরে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে বাকি আসামিদের সাথে একত্রিত হয়ে ডাকাতি সংগঠিত করেন।
অভিযোগপত্রে আরও উঠে এসেছে, পরিকল্পনাকারী দুলাল চৌধুরীর বাড়ি নিহত অর্জুন ভাদুড়ীর পার্শ্ববর্তী এলাকায়। স্থানীয় কারামতিয়া বাজারে দুলাল চৌধুরীর দুই ভাইয়ের স্বর্ণ দোকান রয়েছে। ব্যবসায়ীক সততার কারণে অর্জুন ভাদুড়ীর এলাকায় সুনাম থাকার কারণে দুলাল চৌধুরীর ভাইদের ব্যবসা মন্দাভাব চলতে থাকে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দুলাল চৌধুরী ডাকাতির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেন। তদন্তদকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক আবুল কাশেম বলেন, কেরানিগঞ্জের স্বর্ণ দোকানে ডাকাতি মামলার আসামি ইয়াসিন মাল, শাওন হাওলাদার, রাকিব মাল বরিশাল কারাগারে বন্দি ছিল। পরে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে ঢাকায় আসে। মূল পরিকল্পনাকারী দুলাল চৌধুরী তার সহযোগী খালেদ হোসেন মিলনের মাধ্যমে ডাকাত ইয়াসিন মালের সাথে যোগাযোগ করে ডাকাতির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার দুই মাস আগে দুলাল চৌধুরী ও খালেদ হোসেন ঢাকা থেকে সোনাগাজীতে এসে নিহত অর্জুন ভাদুড়ীর দোকানসহ জমাদারবাজার রেকি করে। পরে ডাকাতিতে অংশ নিতে পিরোজপুর থেকে মোটরসাইকেলসহ লঞ্চযোগে চাঁদপুর হয়ে ফেনীতে পৌঁছেন জাফর হাওলাদার ও শাওন হাওলাদার। সেখানে অপর ডাকাতদের সঙ্গে খালেদ হোসেন মিলনের বাড়িতে অবস্থান গ্রহণ করে তারা।
ঘটনার দিন দুটি মোটরসাইকেলে ছয়জন ফেনীর লালপোল হয়ে সোনাগাজীতে পৌঁছে প্রথমে জমাদারবাজারে বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক তৈরি করে। পরে তারা অর্জুন ভাদুড়ীর স্বর্ণ দোকানে গিয়ে মালামাল লুট করে। এসময় অর্জুন ভাদুড়ী বাধা দিলে তাকে কুপিয়ে গুরতর জখম করে ফের বোমা ফাটিয়ে মোটররসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরে তারা কুঠিরহাট বাজার হয়ে ফেনীর মহিপালের সার্কিট হাউস রোড়ে একত্রিত হয়ে খালেদ হোসেন মিলনের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে একই দিন রাতে ঢাকায় চলে যায়। ডাকাতি করা স্বর্ণলংকার ডাকাত ইয়াসিন মালের স্ত্রী শারমিন জাহান হ্যাপির কাছে গচ্ছিত রাখেন। পরে শারমিন স্বর্ণালংকার বিক্রি করে সবার মাঝে ভাগবাটোয়ারা করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, এ মামলায় অভিযোপত্রে অন্তভুক্ত চার আসামি জাফর হাওলাদার, মোহাম্মাদ মনির, দুলাল চৌধুরী, রাকিব মাল আদালতে নিজেদের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। তদন্তকালে পুলিশ ডাকাতির কাজে ব্যবহ্নত দুইটি মোটরসাইকেল ও শারমিন আক্তারের মুন্সীগঞ্জের বাসা থেকে ২৫ হাজার উদ্ধার করে। অভিযুক্ত ৫ জন কারাগারে আটক রয়েছে, বাকি ৪ আসামি পলাতক রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩০ অক্টোবর সোনাগাজী উপজেলার চরছান্দিয়া ইউনিয়নের জমাদারবাজারের অর্জুন ভাদুড়ীর স্বর্ণ দোকানে দিন-দুপুরে ডাকাতি সংগঠিত হয়। ওই দিন ডাকাতের হামলায় গুরুতর আহত অর্জুন ভাদুড়িকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । পরদিন তার মেয়ের জামাই রনি বনিক বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। চিকিৎসাধীন থাকার ১০ দিনের মাথায় অর্জুন ভাদুড়ির মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন