বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩৩
কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০১ পিএম
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্লেষণ

ছাত্রনেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোথায়?

গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ছাত্রনেতারা। ছবি : সংগৃহীত
গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ছাত্রনেতারা। ছবি : সংগৃহীত

২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন ছাত্রনেতারা। তারা শেখ হাসিনার পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

ছাত্রনেতা-নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে অল্প আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ২৫৩ আসনের মধ্যে তারা মাত্র ৩০টি আসন পেয়েছে। বিপরীতে জামায়াত পেয়েছে ১৭৯টি আসন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বণ্টন ভবিষ্যতে ছাত্রনেতাদের প্রভাব সীমিত করবে। কারণ ভোটারদের প্রায় ৪০ শতাংশ ১৮-৩৭ বছরের মধ্যে।

শেখ হাসিনার পতনের পর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার দাবি তুলেছিলেন ছাত্রনেতারা। তাদের লক্ষ্য ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও স্বচ্ছ শাসন। তাদের আন্দোলন দেশজুড়ে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের আশা তৈরি করেছিল।

ও পি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, তরুণ নেতাদের আরও বড় ভূমিকা থাকা উচিত। আশা করি তারা গুরুত্ব হারাবে না। তিনি আরও বলেন, জামায়াতের সঙ্গে এই জোট ছাত্রনেতাদের আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার মতে, এটি একটি ‘মরিয়া সিদ্ধান্ত’।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত হয় এনসিপি। এখনো তাদের শক্ত ভিত্তি নেই। আন্দোলনের সময় তারা দৃশ্যমান থাকলেও এখন তাদের সাংগঠনিক ঘাটতি স্পষ্ট।

চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আহমেদ বলেন, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট আশ্চর্যজনক। কয়েকজন ছাত্রনেতা এরই মধ্যে দল ছেড়েছেন।

এনসিপির কয়েকজন নেতা স্বীকার করেছেন, আসন-সংক্রান্ত দর কষাকষি এ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। জামায়াত বিএনপির তুলনায় বেশি আসনের প্রস্তাব দিয়েছিল। কয়েকজন নেতার কাছে এটি উপেক্ষা করা কঠিন ছিল।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন দলকে আরও শক্তিশালী করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দিয়েছে।

জামায়াতের উত্থান চমকপ্রদ। তারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পাশে থাকার কারণে বিতর্কিত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে এক দশক ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছেন আদালত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে জোট জামায়াতকে রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করতে পারে। তবে ছাত্রদের উদার সংস্কারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

লন্ডনভিত্তিক বিশ্লেষক প্রিয়জিৎ দেবসরকার বলেন, যুব ভোটাররা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপ্লব ছাত্ররাই সংগঠিত করেছিল। কিন্তু এখন আন্দোলন প্রান্তিক হয়ে যাচ্ছে। তার মতে, জোট জিতলেও সংসদে এনসিপির কম আসন নীতি নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে না।

সম্প্রতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা বেড়েছে। এটি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে। প্রশাসন ঘটনাগুলো গুরুত্ব কমানোর চেষ্টা করছে। কামাল আহমেদ বলেন, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়নি। তারা প্রায়ই নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

নির্বাচন শুরু হওয়ার আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। কামাল আহমেদ আরও বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সহিংসতা রোধ করা। আওয়ামী লীগ ভোটে হুমকি তৈরি করতে পারে। এটি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা কঠিন করে তুলবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অবস্থায় নির্বাচন সমাজে বিভাজন বাড়াবে।

প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র হবে নাকি ইসলামপন্থি রাষ্ট্রে পরিণত হবে। কামাল আহমেদ বলেন, দেশ শুধু স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সংকট কাটাতে পারবে। সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আগামী প্রজন্মকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান সেলিমুজ্জামানের

শ্বশুরবাড়ি গিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইলেন তারেক রহমান

বিএনপির নির্বাচনী থিম সং প্রকাশ

ক্রিকেটারদের সঙ্গে জরুরী বৈঠকে বসবেন ক্রীড়া উপদেষ্টা

শ্বশুরবাড়িতে তারেক রহমান

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসছে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৭ সদস্য

সোনাগাজী উপজেলা ও পৌর বিএনপির সঙ্গে আব্দুল আউয়াল মিন্টুর মতবিনিময়

মেহেরপুরে জামায়াতের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ

শ্বশুরবাড়ির পথে তারেক রহমান

ভোজ্যতেলে পুষ্টিমান নিশ্চিত করতে হবে

১০

পে-কমিশনের প্রস্তাবে কোন গ্রেডে বেতন কত?

১১

নারায়ণগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ

১২

শাহজালালের মাজার ও ওসমানীর কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান

১৩

বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

১৪

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন মারা গেছেন

১৫

বিশ্বকাপ খেলতে মিরাকলের আশা বিসিবি সভাপতির

১৬

প্রতীক পেয়েই প্রচারণা, হাতপাখার প্রার্থীকে জরিমানা

১৭

সবার জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব : রাবি উপাচার্য

১৮

কুমিল্লায় প্রতীক পাননি বিএনপির ২ প্রার্থী

১৯

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা জানালেন আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত

২০
X