জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ব্যাংক খাত থেকে ৩ লাখ কোটি টাকা পাচার হওয়ার কারণ জানালেন গভর্নর

গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। পুরোনো ছবি
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। পুরোনো ছবি

গভর্নেন্স ব্যর্থতা ও চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের অভাবে ৩ লাখ কোটি টাকার মতো দেশ থেকে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, অবৈধভাবে ব্যক্তি ও সরকারি নির্দেশে ঋণ দেওয়ার ফলে ব্যাংকের গভর্নেন্স সিস্টেম নষ্ট হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ব্যাংকিং খাত : বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক লোক বক্তৃতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

গভর্নর বলেন, দেশের ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গভর্নেন্স ফেইলর। সরকার ও প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিবারের নির্দেশে ঋণ দেওয়া হয়েছে। এর পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবহেলা রয়েছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে ব্যাংকের দুরাবস্থার কারণ হলো ব্যাংকগুলোর মালিকানা ব্যক্তিদের হাতে নিয়ন্ত্রণে ছিল। যেমন, ইসলামী ৫টি ব্যাংক এক করা হলো। সবগুলো ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ব্যাংকগুলোতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স না থাকায় ৩ লাখ কোটি টাকার মতো দেশ থেকে চলে গেছে।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে ৪টি খাতের মধ্যে ব্যাংকিং খাত রয়েছে তৃতীয় স্থানে। তবে বাংলাদেশে এর অবস্থান প্রথম। ফলে বাংলাদেশে অন্য আর্থিক খাত ক্ষতির অবস্থানে রয়েছে। এখন আমাদের ভালো অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হবে। ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে অন্য খাতগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে।

ব্যাংকের সংখ্যা প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, দেশে ১০ থেকে ১৫টি ব্যাংক থাকলেই যথেষ্ট হতো, কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক রয়েছে ৬৪টি। অতিরিক্ত ব্যাংকের কারণে প্রশাসনিক জটিলতা ও ব্যয় বেড়েছে। ব্যাংকের সংখ্যা কমলে ব্যয় কমবে এবং লাভজনকতা বাড়বে। তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকের আয় বাংলাদেশের সব ব্যাংকের সম্মিলিত আয়ের সমান।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, একটা ধ্বংস প্রাপ্ত খাতকে এগিয়ে নিয়ে গেছে আমাদের বর্তমান গর্ভনর। অর্থের সাথে আমাদের সম্পর্ক নিবীড়।সবার জানে অর্থই অনর্থের মূল। সেটা আমরা কিছুদিন লক্ষ করলাম। সেই অনর্থ কোথায় এসে ঠেকেছিল শিক্ষার্থীরা সবাইকে সাথে নিয়ে সেই অবস্থা থেকে আমাদের রক্ষা করেছে। ব্যাংকিং খাত ধ্বংস হয়ে গেছিল। আমরা বুঝতে পারছি এই খাতটা কতটা নাজুক পর্যায়ে আছে। বিভিন্ন কলাকৌশলে এটাকে ঠিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যে উন্নয়নের ইতিবাচক ধারা এসছে সেটা অব্যহত থাকবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

লোকবক্তৃতায় আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ্ এবং সদস্য সচিব ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৫ কারণে পুরুষদের শুক্রাণু সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে

বিশ্বকাপের আগে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে মামলা করলেন প্লাতিনি

লাইসেন্স ছাড়া ১৭ বছরে ৯০০ ফ্লাইট চালানোর পর ধরা পরলেন পাইলট 

পদ্মায় স্পিডবোটের ইঞ্জিন লুট, যাত্রীকে কুপিয়ে জখম 

সাড়ে তিন ঘণ্টা পর উদ্ধার লাইনচ্যুত ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের পাওয়ার কার

শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছাবেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার 

বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে নামছে রোনালদোরা

বিএসএফকে কড়া জবাব বিজিবির: আপনি গুলি করলে আমরা কী বসে থাকব?

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হানিফসহ ৪ জনের রায় শিগগিরই

কোন পেশার মানুষ সবচেয়ে দ্রুত চাকরি ছাড়েন?

১০

তামিমার সাবেক স্বামীর প্রতিক্রিয়া / তারা অত্যন্ত ক্ষমতাধর, বড় বড় জায়গায় লিংক আছে

১১

আন্তর্জাতিক বাজারে ১১ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্নে স্বর্ণের দাম

১২

খালাস পেয়ে নাসির হোসেনের প্রতিক্রিয়া

১৩

বাউফলে ‘ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের’ মদ পানের ভিডিও ভাইরাল

১৪

নাসির-তামিমার রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বাদীপক্ষ

১৫

যে ৩ সমীকরণে বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারেন মেসি-রোনালদো 

১৬

পুশইন ও সীমান্ত হত্যা ইস্যু / সীমান্তবর্তী সব জেলায় প্রতিবাদ সমাবেশ করবে ১১ দল

১৭

নো ম্যান্স ল্যান্ডে বৃদ্ধকে রেখে গেল বিএসএফ

১৮

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : কওমি শিক্ষাধারার উন্নয়নে বরাদ্দ হোক

১৯

ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ

২০
X