মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুমন হালদারকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আটক ৩ আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (১০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে রিমান্ড শুনানি শেষে ৩ আসামিকে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত-৪ এর বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইফতি হাসান ইমরান।
এর আগে পুলিশ গ্রেপ্তার তিন আসামি কাওসার হালদার (সিটি কাওসার), শেকেনুর হালদার ও নুর হোসেনের বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন দাখিল করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টঙ্গিবাড়ী থানার এসআই আল-মামুন রিমান্ড শুনানির বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
তিনি মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে আরও বলেন, গত রোববার স্কুল ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় পাঁচগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুমন হালদারকে। হত্যার ঘটনার পরের দিন নিহত চেয়ারম্যানের ভাই ইমন হালদার বাদী হয়ে ৭ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় মামলার আসামি কাওসার হালদার ওরফে সিটি কাওসার, শেকেনুর হালদার ও নুর হোসেনকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও বলেন, এখনো ওই মামলার প্রধান আসামিসহ ৪ আসামি পলাতক রয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, ঘটনার সময়, ঘটনাস্থলে টঙ্গীবাড়ি থানার এসআই সম্রাটসহ পুলিশের একটি টিম উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করছিল। তবে ঘটনার পরপরই হত্যার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদসহ মিলেনুর রহমান মিলন, ভোলা হাওলাদার ও জাহানুর রহমান সওদাগর গুলি করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তখন পুলিশ ছিল নিষ্ক্রিয়।
উল্লেখ্য, গত ৭ জুলাই পাঁচগাঁও আলহাজ ওয়াহেদ আলি দেওয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে বিদ্যালয়ের বারান্দায় চেয়ারে বসা ছিলেন চেয়ারম্যান সুমন হালদার। এমতাবস্থায় হঠাৎ প্রতিপক্ষের সমর্থক নূর মোহাম্মদ চেয়ারে লাথি মেরে সুমনকে ফেলে দেয়। তার কাছে থাকা রিভলভার দিয়ে গুলি করে ফেলে রেখে চলে যায়।
মন্তব্য করুন