বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অফিস, দোকানপাট ও বিপণিবিতানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের একাধিক ঘটনা ঘটেছে সাভারে। আন্দোলন কর্মসূচি চলাকালীন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পরিবহন।
বিশেষ করে সাভারের রেডিও কলোনি থেকে সাভার উপজেলা পরিষদের মূল ফটক এলাকা পর্যন্ত চালানো হয়েছে ধ্বংসযজ্ঞ। সাভারের কয়েকটি মিষ্টি দোকানসহ বিভিন্ন বিপনিবিতানের সামনে চোখে পড়েছে পোড়া চিহ্ন। সাভার মডেল মসজিদ সংলগ্ন সার্ভিস লেনের পাশে আগুনে পুড়ে গেছে বাস, ট্রাক, পিকআপ ও মাইক্রোবাস। সাভারের উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতরে আগুন দিয়ে পুড়ে দেওয়া হয়েছে গাড়ি। এ ছাড়া অফিসের বিভিন্ন কাগজপত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সাজেদুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, দুষ্কৃতিকারীদের হামলায় আমাদের অফিসে দুই কোটি ৬০ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। হামলাকারীরা মূল ফটক ভেঙে কার্যালয়ে ঢুকে ১৩টি কক্ষ ভাঙচুর করে এবং চারটি কক্ষে আগুন দেয়। এ ছাড়া রাতে এসিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহুল চন্দ বলেন, সাভার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে ভাঙচুর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা এসি পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছে। উপজেলা পরিষদ ফটকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ভাঙচুর করেছে। খাবারের বেশ কিছু জায়গায় চালানো হয়েছে তাণ্ডব। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
শনিবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় সাভারে পশু হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শনে এসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আবদুর রহমান বলেন, দেশজুড়ে সহিংসতার পাশাপাশি সাভারের প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পশু হাসপাতালেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোনো কিছু বর্ণনা করার ভাষা নেই, আমার কাছে মনে হল ওইদিন আমরা নতুন করে একাত্তর সাল দেখলাম। তাদের আক্রমণের একটা লক্ষ্যবস্তু ছিল আমাদের সাভারের প্রাণিসম্পদের অফিস। তিনি বলেন, তারা মারাত্মকভাবে এ অফিসে আক্রমণ চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যেভাবে তারা ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে তাতে মনে হলো এদের সঙ্গেই তাদের একটা যুদ্ধ ছিল এবং তারা এদের সঙ্গেই যুদ্ধ করেছে। একটা স্বাধীন দেশে এটা কি ভাবা যায় যে, তারা একটা অফিসের টয়লেটের কমোড পর্যন্ত ভাঙচুর করেছে। যারা এ ভাঙচুর চালিয়েছে, এ তাণ্ডব চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে দেশের মুক্তিকামী মানুষকেই রুখে দাঁড়াতে হবে। তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সচিব সায়েদ মাহামুদ বেলাল হায়দর, মংস ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. মোহাম্মদ রেয়াজুল হক ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম প্রমুখ।
মন্তব্য করুন