পদ্মার তীব্র ভাঙনে নির্ঘুম রাত কাটছে পাড়ের বাসিন্দাদের। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে নদী পাড়ের হাজার হাজার বাসিন্দাসহ দোকানপাট ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। পদ্মায় তীব্র ভাঙনে ফেরিঘাটের পন্টুন সাময়িক বন্ধ রয়েছে। দিশাহারা হয়ে পড়েছেন পদ্মা পাড়ের মানুষ।
ভাদ্র-আশ্বিন মাসে পদ্মা নদীর ভাঙন বেশি দেখা যায়। গত এক সপ্তাহ ধরে ভাঙনের শিকার হয়েছে জেলার দৌলতদিয়া ৪নং ফেরিঘাটসহ আশপাশের এলাকা। আর ভাঙনের মাত্রা অতি তীব্র হওয়ায় ঘাটের ৪নং পন্টুনে ফেরি ভিড়তে পারছে না।
ভাঙনের মাত্রা তীব্র হলেও ঘাট রক্ষার্থে তেমন প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি বিআইডব্লিউটিএর। অতি ভাঙনে বিআইডব্লিউটিএর গাফিলতির কথাও বলছেন অনেকে। আর এ ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন নদী পাড়ের হাজারো মানুষ। তবে নদীভাঙনে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাড়িঘর, দোকানপাট, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশপথ রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ পারাপার হয়। ঘাটে সর্বমোট সাতটি ফেরিঘাটের পন্টুন রয়েছে। সাতটির মধ্যে সচল ছিল তিনটি পন্টুন। সাত নম্বর ফেরিঘাট, তিন নম্বর ফেরিঘাট ও চার নম্বর ফেরিঘাট। এ তিনটি ঘাট দিয়েই যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হতো। কিন্তু চার দিন ধরে চার নম্বর ফেরিঘাটটি পদ্মার ভাঙনে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা।
মোতালেব হোসেন নামের বাসিন্দা বলেন, গত শুক্রবার থেকে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। কারো কোনো নজর নেই। কখন যে নদী ভেঙে আমাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে যায় সে ভয়ে আছি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না ভয়ে।
তমাল মৃধা নামের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা ভাঙন আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারছি না। সন্তানদের নিয়ে রাতভর জেগে থাকি। কারণ কখন যে আমাদের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায়। আমরা খুব ভয়ে দিন-রাত পার করছি। এ থেকে আমরা মুক্তি চাই।
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ কালবেলাকে জানায়, নদীর ভাঙন থেকে ঘাট রক্ষা করার জন্য পর্যায়ক্রমে ২৪০ বস্তা বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। ঘাটটি রক্ষা করার জন্য বিআইডব্লিউটিএর কাজ চলছে এবং এ কাজ চলমান থাকবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র কালবেলাকে বলেন, পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া অংশে প্রায়ই ভাঙন দেখা দেয়। এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ দুটি কর্তৃপক্ষ যেহেতু নদীভাঙন নিয়ে কাজ করে এবং নদী শাসনের কাজ তারা করে থাকে। এখানে ঘাট এলাকা হওয়ায় বিআইডব্লিউটিএ এ কাজটি করবে। নদীর পানি কিছুটা কমে যাওয়ার কারণে এখানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনে ৪নং ফেরিঘাটটি বন্ধ থাকায় অতিদ্রুত চালুর জন্য কাজ করছে বিআইডব্লিউটিএ। যানবাহন পারপারে যেন কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য দ্রুতই ঘাটটি চালুর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
বিআইডব্লিউটিএ আরিচা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী নেপাল চন্দ্র দেবনাথ কালবেলাকে বলেন, ভাঙন এলাকার মধ্যে ফেরির পন্টুন চালু রাখতে পারি না। মানুষের জান-মালের কথা ভেবে পন্টুনটি বন্ধ করে রেখেছি। এ কারণে এখানে আমরা কাজ শুরু করেছি। স্থায়ীভাবে ঘাট রক্ষার ব্যাপারে আমাদের প্রজেক্টের কাজও চলমান আছে। ঘাট এরিয়ায় যদি কোনো ভাঙন থাকে, আমাদের স্বল্প পরিসরে কাজ করার ব্যবস্থা আছে। অতিদ্রুতই ৪নং ফেরিঘাটের কাজটি শেষ হয়ে যাওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।
মন্তব্য করুন