নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০২৩, ০৪:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শিকলে বন্দি জীবন, অর্থের অভাবে হচ্ছে না চিকিৎসা

আলী আক্কাছ
আলী আক্কাছ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে সাত বছর আগে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন আলী আক্কাছ (৩০) নামের এক যুবক। এর পর থেকে কখনো জমি বিক্রি করে, আবার কখনো এলাকাবাসী থেকে টাকা চেয়ে আলী আক্কাছের চিকিৎসা করেন পরিবার।

নাঙ্গলকোট জামান ক্লিনিক ও মইডার হোমসেও তার চিকিৎসা করেন পরিবার। চিকিৎসায় কিছুদিন ভালো থাকে। আবার শুরু হয় তার পাগলামি। ধূমপান করা তার নেশায় পরিণত হয়েছে। সুযোগ পেলে বাড়ির পাশের নাঙ্গলকোট-ঢালুয়া সড়কে তিনি চলে যান। স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের দেখলে আক্রমণ করার পাশাপাশি পথচারীদেরও বিভিন্ন সময়ে মারধর করেন। যার ফলে প্রায় সময় তিনি হাত-পায়ে শিকল বন্দি থাকতে হয়।

তিনি উপজেলার ঢালুয়া ইউপির বদরপুর আকমত আলী বেপারী বাড়ির তাজুল ইসলামের ছেলে। টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না তার। এখন তার হাতে ও পায়ে শিকল পরানো অবস্থায় ঘরের ছোট্ট জীর্ণকক্ষে দিন কাটে।

পরিবারের সদস্যদের চোখের আড়াল হলেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অকারণেই মানুষকে গালমন্দ ও স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের বিরক্ত ও গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কারও কারও কাছে সিগারেটও চান তিনি। এমন অস্বাভাবিক আচরণ সামাল দিতে গিয়ে পরিবারের লোকজনকে পড়তে হয় বিপাকে। বাধ্য হয়ে তার স্ত্রীও চলে যান বাপের বাড়িতে। যা সামর্থ্য ছিল, তা দিয়ে পরিবারের লোকজন চিকিৎসা করিয়েছে। তবে অর্থের অভাবে ভালো কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না তার।

চিকিৎসকরা জানিয়েছে, ভালো মানের চিকিৎসা পেলে ভালো হয়ে যাবেন তিনি। একসময় বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সাহায্য ও পরিবারের অর্থে চিকিৎসা করালেও এখন আর তা পারছে না।

তার বড় ভাই নুরুন নবী বলেন, আলী আক্কাছকে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে ডাক্তার দেখানো হয়। কিছুদিন ভালো ছিল। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। মেয়েদের দেখলে গালমন্দ ও গায়ে পড়তে চায়। সিগারেট পান করলে শান্ত থাকে সে।

মা হাবিয়া খাতুন বলেন, তার ছেলের মাথায় সমস্যা দেখা দিলে জায়গাজমি বিক্রি ও বিভিন্ন লোকজন থেকে সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা করান। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন আলী আক্কাছ। মেধাশক্তি ছিল ভালো। হঠাৎ করে ঘরে ঝিমিয়ে বসে থাকতে থাকতে একপর্যায়ে পাগলামি শুরু করতে থাকেন। তার হাত থেকে আমিও রক্ষা পাইনি। মহিলাদের মারধর ও গালমন্দ করে। তাই শিকল বন্দি জীবন পার করতে হচ্ছে সন্তানকে। তিনি আর চান না সন্তানের হাতে পায়ে শিকল পরানো অবস্থায়। এজন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পারে সুস্থ করে তুলতে।

কালবেলা/এনএএস
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে উল্টো রথযাত্রায় মানুষের ঢল

রোববার বঙ্গভবন ছাড়বেন সাহাবুদ্দিন

এক মেয়াদে তিন সরকারপ্রধান, আরও যে নতুন রেকর্ড সাহাবুদ্দিনের

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের অবস্থান থেকে বেসামরিকদের দূরে থাকার আহ্বান ইরানের

৭৭ কোটি টাকার ক্ষতি / চট্টগ্রামে বন্যায় ১ লাখ ৬১ হাজার পশু ও হাঁস-মুরগির মৃত্যু

পূর্ণিমার প্রশ্নে অকপট শাকিব খান

শুক্রবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান, প্রতিহত করার দাবি জর্ডানের

রবীন্দ্রনাথ-ওকাম্পো স্মরণে ‘রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় বিজয়া’

স্পিকারের দায়িত্বে কায়সার কামাল

ব্লিচার রিপোর্টের প্রতিবেদন / বিশ্বকাপের ‘ফ্লপ’ একাদশ ঘোষণা, রোনালদোসহ জায়গা পেলেন যারা

১০

পদত্যাগের পরও আজীবন যেসব সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন

১১

নিউইয়র্ক বাংলা ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’র প্রথম আসর আগামী ২ আগস্ট

১২

ঢাবি দর্শন বিভাগ অ্যালামনাইয়ের বর্ষা উৎসব

১৩

জীবন বাঁচাতে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী তারকা ফুটবলার

১৪

ইসলামি দেশগুলোর এক নম্বর শত্রু ইসরায়েল: গালিবাফ

১৫

সাহাবুদ্দিনের যত আলোচিত বক্তব্য

১৬

যাকে রাষ্ট্রপতি চান আসিফ নজরুল

১৭

মিরসরাইয়ে পাচারের সময় দুই তক্ষকসহ গ্রেপ্তার ২

১৮

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ করে বরাদ্দ দেওয়া হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

১৯

ভারতে ভূমিধসে গাড়ি চাপা পড়ে নিহত ১৩

২০
X