চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৫, ০৫:০৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গরমে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা, হাসপাতালে স্যালাইন সংকট

গরমে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের একটি চিত্র। ছবি : কালবেলা
গরমে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের একটি চিত্র। ছবি : কালবেলা

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে কয়েক দিন থেকে ভ্যাপসা গরমে স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। এ অবস্থায় রোগের সংক্রামণ অনেক বেড়েছে। মঙ্গলবার (১৭ জুন) ৮ দিনের ব্যবধানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪৫৭ জন।

এদিকে হাসপাতালে কলেরা স্যালাইন সংকট দেখা দিয়েছে। এমন গরমে চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষ ও রোগীদের সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

অন্যদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সরেজমিনে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, গরমজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকেই। তবে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী ও তার স্বজনদের দাবি, হাসপাতাল থেকে স্যালাইন সরবরাহ নেই, তাই বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে।

এ সময় ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী আব্দুর রহমানের স্বজন রেহেনা জানান, পাতলা পায়খানা, জ্বর এজন্য তাকে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু সোমবার (১৬ জুন) থেকে ভর্তি, এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে স্যালাইন সরবরাহ করা হয়নি। বাইরে থেকে নিতে হচ্ছে।

সাধারণ ওয়ার্ডের রোগী আব্দুল মজিদ কাশিমবাজার থেকে এসেছেন। তিনি রোববার থেকে ভর্তি। থানাহাট ইউনিয়নের ঠগের হাটের স্মৃতি বেগম হঠাৎ করে মাথাব্যথা, শরীর দুর্বল- এজন্য হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১০ জুন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৭১ রোগী, ১১ ও ১২ তারিখ ৬২ জন করে, ১৩ জুন একটু কমলেও চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৮ জন। এরপর ধারাবাহিকভাবে ১৪ ও ১৫ জুন ৬৮ ও ৭১ জন এবং সোমবার ও আজকে দুপুর পর্যন্ত ৫০ ও ১৫ জন শিশু-নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। এই কয়েক দিনে কলেরা স্যালাইন সরবরাহ হয়েছে ৬০টি, রোগীর তুলনায় যা ছিল সীমিত।

চিলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোরকিপার (ভারপ্রাপ্ত) মো. নাসির উদ্দিন জানান, ৫ দিনে ৬০টি কলেরা স্যালাইন শেষ। ডিএ, হার্টম্যান ও কলেরা স্যালাইন এবং ট্যাবলেট হিসটেসিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আগামী পরশুদিন এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড বগুড়া থেকে আনা হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে গরমে সংক্রামণের হাত থেকে রক্ষা পেতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে চিলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আবু রায়হান। তিনি জানান, গরমের পাশাপাশি এ ঈদে গরুর মাংস খাওয়া পর থেকে পেট ব্যথা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

এ সময় বেশি বেশি করে পানি পান করা, বাইরে বের হলে ঠান্ডা জায়গায় অবস্থান নেওয়া, প্রয়োজন মতো ওরস্যালাইন, আখের রস, ডাবের পানি পান করার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।

স্যালাইন সরবরাহ না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলায় স্যালাইন সংকট রয়েছে। আগামী শনিবার থেকে স্যালাইন সরবরাহ করা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতেই হবে : সাকি

ছেলের মৃত্যুর খবরে প্রাণ গেল মায়ের, হাসপাতালে বাবা

হাত-পায়ের পর খণ্ডিত মাথা উদ্ধার

জঙ্গল সলিমপুরের ঘটনায় কালা বাচ্চু গ্রেপ্তার

এমন কাজ করিনি যে সেফ এক্সিট নিতে হবে : প্রেস সচিব

কেন্দ্র দখলের চিন্তা করলে মা-বাবার দোয়া নিয়ে বের হইয়েন : হাসনাত

সীমান্ত থেকে ভারতীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজি চলবে না : ব্যারিস্টার খোকন

জবি সাংবাদিকতা বিভাগের সরস্বতী পূজার ব্যতিক্রমী থিম

গাজীপুরের সেই ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫

১০

আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ‌‘বাঙালি’ দাবি মিয়ানমারের, প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের

১১

মাছের ঘের থেকে বস্তাভর্তি ফেনসিডিল উদ্ধার

১২

টিকটক করতে বাধা দেওয়ায় গৃহবধূর কাণ্ড

১৩

জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

১৪

‘জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় চলছে, মৃত্যুকে ভয় করি না’

১৫

আন্দোলনে শহীদ জাকিরের মেয়ের বিয়েতে তারেক রহমানের উপহার

১৬

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড নিয়ে কবীর ভূঁইয়ার গণসংযোগ

১৭

ঢাকা কলেজে উত্তেজনা

১৮

প্রস্রাবের কথা বলে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালালেন আসামি

১৯

জনগণের দোয়া ও সমর্থন চাইলেন রবিউল

২০
X