

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে দুদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডামুড্যা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন মল্লিক গ্রেপ্তার সোহাগ খান, রাব্বি মোল্যা ও পলাশ সরদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেন।
এর আগে রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা আক্তার শুনানি শেষে তাদের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত শনিবার রাত ১টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর থানার পূর্ব কৈলানপুর এলাকায় র্যাব-৮ (বরিশাল) ও র্যাব-১৪ (কিশোরগঞ্জ)-এর যৌথ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার রাতে তাদের ডামুড্যা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পুলিশ তাদের শরীয়তপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নিহত খোকন চন্দ্র দাস ডামুড্যা উপজেলার তিলই গ্রামের পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি কেউরভাঙা বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এজেন্ট ছিলেন।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে সন্ত্রাসীরা তার শরীরে পেট্রোল জাতীয় দ্রব্য ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। শনিবার সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। শনিবার রাতেই নিজ গ্রামে তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনায় কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৮), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২৪) ও শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)-এর বিরুদ্ধে ডামুড্যা থানায় হত্যা মামলা করা হয়। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিহতের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস মামলাটি করেন।
শরীয়তপুর আদালত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাবুদ্দিন মুন্সী বলেন, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে রোববার রাতে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ডামুড্যা থানায় নেওয়া হয়েছে।
ডামুড্যা থানার ওসি মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, রিমান্ডে নিয়ে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। নির্ধারিত সময় শেষে তাদের আবার আদালতে পাঠানো হবে।
মন্তব্য করুন