

কক্সবাজারের টেকনাফে বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলারের জেলেদের জালে এক সঙ্গে ধরা পড়েছে ৬৭৭টি লাল কোরাল মাছ। বিক্রি করা হয়েছে ১০ লাখ টাকায়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এ তথ্য জানান ট্রলার মালিক মোহাম্মদ জাকারিয়া।
এর আগে, বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে সেন্টমার্টিন চ্যানেলের মৌলভীর শীল এলাকায় মাছগুলো ধরা পড়ে। পরে বিকেলে মাছ নিয়ে জেলেরা শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিজ ঘাটে যায়।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিজ ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে ট্রলারটি ছেড়ে যায়। ট্রলারের মাঝি আবুল কালামের নেতৃত্বে ৯ জন মাঝিমাল্লা ছিলেন। সন্ধ্যায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের উত্তর পাশে সেন্টমার্টিন চ্যানেলে ট্রলারটি নোঙর করে জেলেরা জাল বসান। বুধবার সকালে জালে লাল কোরালগুলো ধরা পড়ে।
ট্রলার মালিক জাকারিয়া বলেন, প্রায় ৭০০টি মাছ থেকে ৬৭৭টি মাছ বিক্রি করা হয়েছে ১০ লাখ টাকায়। প্রথমে প্রতি মণ ২৪ হাজার টাকা ধরে মাছগুলোর দাম হাঁকা হয়েছিল ১২ লাখ টাকা। পরে দর কষাকষি করে ২৩ হাজার টাকা মণে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী রহিম উল্লাহ বলেন, মাছগুলো বরফ দিয়ে মিস্ত্রিপাড়া ফিশারিজে রাখা হয়েছে। পরে সেগুলো কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে নিয়ে বিক্রি করা হবে। সুস্বাদু কোরাল কিংবা ভেটকি মাছের কদর দেশব্যাপী।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগরের গভীর জলের মাছ কোরাল সব সময় হাটবাজারে পাওয়া যায় না। এ জন্য এই মাছের দাম কিছুটা বেশি।
শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রীপাড়া ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাসান বলেন, লাল কোরাল গভীর সমুদ্রের মাছ। সেন্টমার্টিন চ্যানেলে এই লাল কোরাল মাছ বেশি ধরা পড়ে। বেশ কিছুদিন ধরে সাগরের মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না। বুধবার থেকেই ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। অন্য জেলেরাও লাল কোরাল মাছ ধরতে সেন্টমার্টিন চ্যানেলে জাল ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
টেকনাফ উপজেলার জ্যেষ্ঠ সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা উমূল ফারা বেগম তাজকিরা বলেন, কোরাল মাছ উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চল বিশেষত পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দেখা যায়। তা ছাড়া এশিয়ার উত্তরাঞ্চল, কুইন্সল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্ব আফ্রিকার পশ্চিমাঞ্চলেও এদের দেখা যায়। প্রজনন মৌসুমসহ সরকারি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় সাগরে এখন বড় বড় কোরাল মাছ পাওয়া যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন