

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় সালিশ বৈঠকের নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের রঙিলা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, পাশের কক্ষে বসবাসরত এক নারীর গোসলের ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে নিহত নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই নারী গোসল করার সময় বাথরুমের দেয়ালের ওপর একটি মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। পরে ওই নারী অভিযোগ তুলে ধরলে নুরুজ্জামানকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সানোয়ার হোসেন জানান, নুরুজ্জামান জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ভিডিও ধারণের বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর বাড়ির কেয়ারটেকারসহ স্থানীয় কয়েকজন সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত কয়েকজন তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। পরে সবাই ঘর থেকে বের হয়ে দরজায় তালা লাগিয়ে চলে যায়।
এদিকে রাতে অন্য ভাড়াটিয়ারা ঘরের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে নুরুজ্জামানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে নিহত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের নাম মো. নুরুজ্জামান (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার সাইল্লাবাউলা গ্রামের বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ জাহের খানের ছেলে। নুরুজ্জামান রঙিলা বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে এক্সাভেটর চালকের কাজ করতেন।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজিনা খাতুন শুক্রবার বিকেলে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী পুলিশ নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মন্তব্য করুন