

ঢাকার ধামরাই উপজেলার রামরাবন এলাকায় ‘ধর্ষণের গুজব’ ছড়িয়ে সংঘটিত ছিনতাই কাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের রামরাবন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিয়োস চন্দ্র মনি দাস (৩০), শ্রী চরণ (৫০), সুভন (৩০) ও দিপু চন্দ্র মনি দাস (৪৫) নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সবাই ওই এলাকার বাসিন্দা। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৮ হাজার ৬৩০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে শ্রী চরণের বিরুদ্ধে পূর্বে একটি মাদক মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জানুয়ারি রাতে ধামরাইয়ের নান্দেশ্বরী এলাকায় এনডিই ডেভলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের ড্রাম ট্রাকচালক আব্দুর রাজ্জাক তার বান্ধবীকে নিয়ে মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদার বাড়িতে বেড়াতে যান। পরে রাত যাপনের জন্য ধামরাইয়ের রামরাবন এলাকায় এক সহকর্মীর আত্মীয়ের বাড়িতে ওঠেন তারা।
রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটের দিকে ৩-৪ জন ব্যক্তি নিজেদের ডাকাত নয় দাবি করে দরজা খুলতে বলেন। সরল বিশ্বাসে দরজা খুললে তারা ঘরে ঢুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আব্দুর রাজ্জাক ও তার বান্ধবীকে মারধর করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যেই তারা মালামাল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক কালবেলাকে জানান, ঘটনার সময় কোনো ধর্ষণ কিংবা খুঁটিতে বেঁধে মারধরের ঘটনা ঘটেনি। পরে কিছু গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ষণের গুজব ছড়ানো হয়, যা সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, ঘটনার এক সপ্তাহ পর কয়েকটি অনলাইন মাধ্যমে ‘হিন্দু বাড়িতে মুসলিম গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার’ শিরোনামে খবর প্রকাশ হলে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, ঘটনার সঙ্গে ধর্ষণের কোনো সত্যতা নেই।
ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
মন্তব্য করুন