

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। তার বিজয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর পর এ আসনের মানুষ বিএনপির দলীয় এমপি পেলেন।
বৃহস্পতিবার ( ১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারজন প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন।
জানা যায়, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসনে ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিজয় লাভ করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কয়েক দশকের ইতিহাস পাল্টে দিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।
বিএনপি নেতা আক্তার হোসেন লাল মিয়া বলেন, জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার যথাযথ প্রতিফলন ঘটিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা রাখবেন তিনি। যদি তা করেন তাহলে বিএনপি নেতাকর্মীদের ৩০ বছরের আশার বাস্তব প্রতিফলন হবে।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য, উপজেলা ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এম এ ছায়াদ বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর পর গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারবাসী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে এমপি হিসেবে পেয়েছে। এই বিজয় শুধু ধানের বিএনপির নয়, এই বিজয় আপামর জনতার।
গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মহিউসুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস বলেন, দীর্ঘ চার দশক পরে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ায় আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। আশা করি, তিনি বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে দুই উপজেলার উন্নয়ন ও জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।
নবনির্বাচিত এমপি অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, দীর্ঘ দিন থেকে আমি এলাকায় মানুষের সুখ দুঃখে পাশে থেকে কাজ করেছি। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আমাকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন বলেই জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। যে অঙ্গীকার নিয়ে ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, আগামীতে সেই অঙ্গীকার যেন আমি যথাযথভাবে পালন করতে পারি এজন্য সবার সহযোগিতা চাই। এ সময় তিনি দলের সকল নেতাকর্মী এবং ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সেলিম উদ্দিন ১ লাখ ১ হাজার ৫৬৯ ভোট পেয়েছেন। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির মো. আব্দুন নুন ১ হাজার ১৭০ ভোট এবং গণঅধিকার পরিষদের জাহিদুর রহমান ট্রাক প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ৩৮৬ ভোট পেয়েছেন।