গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১২:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সাপে কাটে গ্রামে আর চিকিৎসা হয় শহরে, প্রাণ যায় পথে

গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি : কালবেলা
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি : কালবেলা

দেশের বেশিরভাগ সাপে কাটার ঘটনা গ্রামাঞ্চলে ঘটলেও উপজেলা পর্যায়ে নেই কোনো চিকিৎসা সেবা। যে কারণে সাপে কাটা অধিকাংশ রোগীই জেলা শহরে নেওয়ার পথে মৃত্যু হচ্ছে। যুগের পর যুগ ধরে এই অব্যবস্থাপনা চলে আসলেও কোনো সরকারের আমলেই অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না।

সূত্রমতে, প্রতিদিনই দেশের কোনো না কোনো গ্রামাঞ্চলে বিষধর সাপে কাটার ঘটনা ঘটছে। গ্রামে সাপে কাটার কোনো ঘটনা ঘটলেই প্রথমেই ডাক পড়ে ওঝার। ওঝার মন্ত্রে যখন কাজ হয় না তখনই ছুটে যান উপজেলা হাসপাতালে, সেখানে গিয়ে কোনো চিকিৎসা না পেয়ে যেতে হয় জেলা শহরের হাসপাতালে। আর জেলা শহরে যাওয়ার আগেই ঝরে যাচ্ছে সাপে কাটা রোগীর প্রাণ।

আর এভাবে গত কয়েক বছরের ব্যবধানে বরিশালের গৌরনদীতে চিকিৎসা না পেয়ে অন্তত পাঁচটি সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গৌরনদী পৌরসভার বানিয়াশুরি গ্রামের মাজেদা বেগম (৫০) নামের এক গৃহবধূকে বিষধর সাপে কামড় দেয়। দেড়ঘণ্টা ঝাড়ফুঁক দেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। উপজেলা হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় জেলা শহরে নেওয়ার পথে মাজেদার মৃত্যু হয়।

২০২০ সালের মে মাসে পৌরসভার দিয়াশুর গ্রামের শাওন চৌকিদার (২১) নামের এক কলেজছাত্রকে বিষধর সাপে কামড় দেয়। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মারা যায় শাওন।

একই বছরে বার্থী ইউনিয়নের তাঁরাকুপি গ্রামের ফারুক দেওয়ান, সরিকল ইউনিয়নের সাহাজিরা গ্রামের সাপুড়ে রেজাউল করিম, ২০২৩ সালে উপজেলার চন্দ্রহার গ্রামের রাজু সরদারকে বিষধর সাপে কামড় দেওয়ার পর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে জেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের স্বজনদের দাবি, উপজেলা হাসপাতালে বিষধর সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু থাকলে বিনা চিকিৎসায় সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু হতো না।

উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তৌকির হোসেন জানান, ২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৬০টি সাপে কাটা রোগীকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরমধ্যে শুধুমাত্র বিষধর সাপে কাটা রোগীদের জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, বিষধর সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসা যাতে উপজেলা হাসপাতালেগুলোতে হয় সেই নির্দেশনা আগে থেকেই দেওয়া হয়েছে। তবে এন্টিভেনম সংকট রয়েছে। এন্টিভেনম যাতে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হয় সেই বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দ্রুত পদায়নসহ তিন দফা দাবি প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের

ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ

রাজেন্দ্রপুরে বনভোজনের বাস উল্টে ২০ শিক্ষার্থী আহত

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার জন্য হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন

আইসিসির মাসসেরার দৌড়ে তাইজুল-মুশফিক

আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক

কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলা : হানিফসহ ৪ আসামির রায় যেকোনো দিন

বৃষ্টিতে ভেসে গেল বাংলাদেশ ইমার্জিং-এর দ্বিতীয় ওয়ানডে

অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল বেলফাস্ট, গাড়ি-বাড়িতে আগুন-ভাঙচুর

ফেসবুক লাইভে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলাচেষ্টার অভিযোগ সেই মাহদীর

১০

শঙ্কা টিআইবির / মানবাধিকার কমিশন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থায় পরিণত হতে পারে

১১

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ৬ষ্ঠ বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত

১২

গর্ভে ধারণ করা সন্তানের নতুন বিল্ডিংয়ে ঠাঁই নেই বৃদ্ধা মায়ের

১৩

আকিজ রিসোর্স নিয়ে এলো ‘মেডিপ্লেক্স’

১৪

বিশ্বকাপে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ম্যাচ কবে? জেনে নিন দুই দলের সূচি

১৫

চানখাঁরপুলে দুই বাসের মাঝে চাপা পড়ে ডিস্ট্রিবিউটরের মৃত্যু

১৬

৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, গ্রেপ্তার এক

১৭

লাশ পচনে প্রথমবার জানা যায়নি সালমানের মৃত্যুর কারণ, তোলা হচ্ছে ফের

১৮

জেনায় লিপ্ত ব্যক্তির তাওবা কবুল হয় কি?

১৯

ইরানকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ ঘোষণা ট্রাম্পের

২০
X