চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

গর্ভে ধারণ করা সন্তানের নতুন বিল্ডিংয়ে ঠাঁই নেই বৃদ্ধা মায়ের

ছেলের বিল্ডিং বাড়ি ও তার বৃদ্ধা মা। ছবি : কালবেলা
ছেলের বিল্ডিং বাড়ি ও তার বৃদ্ধা মা। ছবি : কালবেলা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ছেলের নতুন বিল্ডিংয়ে ৯৬ বছর বয়সী বৃদ্ধা মায়ের আশ্রয় হয়নি। ছেলে প্রবাসে চলে যাওয়ার পর তাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের। বর্তমানে তিনি মেয়ের জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভুক্তভোগী ছামেনা খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী জন্ম ১৯৩১ সালের ২২ নভেম্বর। তার স্বামী আবদুল হক ২০০৮ সালে মারা যান। তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে একমাত্র ছেলে ফয়েজ আহমেদ ২০০৬ সাল থেকে সৌদি আরবে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ছামেনা খাতুনের দুর্দশা শুরু হয়। ২০১১ সালে ছেলে ফয়েজ আহমেদ তাকে নিজের বাড়ি থেকে পাশের বাড়িতে থাকা মেয়ে রোকেয়া বেগমের কাছে পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে মেয়ের বাড়িতেই বসবাস করছেন তিনি। রোকেয়া বেগম নিজেও স্বামীহারা। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে অভাবের সংসার চালালেও মায়ের দেখভাল করে আসছেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে ফিরে ফয়েজ আহমেদ নতুন একটি বিল্ডিং ঘর নির্মাণ করেন। গ্রামবাসীর অনুরোধে তিনি মাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু গত ৪ মে সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার পরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ফয়েজ আহমেদের স্ত্রী রুমা বেগম গভীর রাতে ছামেনা খাতুনের মালামালসহ তাকে আবার মেয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

ছামেনা খাতুনের মেয়ে রোকেয়া বেগম বলেন, আমার ভাই ও ভাবি দীর্ঘদিন ধরে মায়ের প্রতি অবহেলা করে আসছেন। আমার অভাবের সংসার হলেও আমরা মায়ের ভরণপোষণ চালিয়ে যাচ্ছি। ভাই দেশে এসে মাকে নতুন ঘরে তুলেছিলেন। কিন্তু তিনি বিদেশে যাওয়ার পরদিনই ভাবি মাকে ঘর থেকে বের করে দেন।

ছামেনা খাতুন বলেন, আমাকে অনেক বছর আগে ছেলে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। তারা আমার কোনো খোঁজখবর রাখে না। আমার মেয়েরাই আমাকে দেখাশোনা করে।

লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন, গ্রামবাসীর অনুরোধে ফয়েজ আহমেদ তার মাকে নতুন ঘরে তুলেছিলেন। কিন্তু বিদেশে যাওয়ার পরদিনই তার স্ত্রী বৃদ্ধাকে ঘর থেকে বের করে দেন। বর্তমানে যে মেয়ের বাড়িতে তিনি থাকছেন, সেই পরিবারও খুবই অসচ্ছল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুমা বেগম সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিক চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আলকরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বশর বলেন, বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজখবর নিয়ে গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ছামেনা খাতুনের ভরণপোষণের বিষয়েও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হলুদ জার্সিতে সিরাজগঞ্জ শহর মাতালো ব্রাজিল ভক্তরা

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উদ্‌যাপিত

পাট গবেষণা ইনসটিটিউটের ‘জাতীয় পরিবেশ পদক, ২০২৫’ অর্জন 

যমুনা ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, লাগবে না অভিজ্ঞতা

ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূল বন্ধে বিশ্বকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান অ্যামনেস্টির

ঝিনাইদহ মেডিকেল কলেজ স্থাপনে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন

আড়ংয়ে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, এসএসসি পাসেই আবেদন

সরকারি হাসপাতালে ২৩ হাজারের বেশি পদ শূন্য : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রূপায়ন গ্রুপে চাকরি, বেতন ছাড়াও থাকছে বিভিন্ন সুবিধা

আমিরাতের ভিসা নিয়ে সুখবর, চালু হচ্ছে ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট

১০

এবার জেন-জি আন্দোলনের মুখে দক্ষিণ কোরিয়া

১১

দ্রুত পদায়নসহ তিন দফা দাবি প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের

১২

ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ

১৩

রাজেন্দ্রপুরে বনভোজনের বাস উল্টে ২০ শিক্ষার্থী আহত

১৪

নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার জন্য হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন

১৫

আইসিসির মাসসেরার দৌড়ে তাইজুল-মুশফিক

১৬

আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক

১৭

কুষ্টিয়ায় হত্যা মামলা : হানিফসহ ৪ আসামির রায় যেকোনো দিন

১৮

বৃষ্টিতে ভেসে গেল বাংলাদেশ ইমার্জিং-এর দ্বিতীয় ওয়ানডে

১৯

অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল বেলফাস্ট, গাড়ি-বাড়িতে আগুন-ভাঙচুর

২০
X