নাটোর (বড়াইগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২১ পিএম
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

দড়ি ধরে মসজিদে যাওয়া অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মারা গেছেন

১২০ বছর বয়সী অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা দড়ি ধরে প্রতি ওয়াক্তে মসজিদে যেতেন। ছবি : সংগৃহীত
১২০ বছর বয়সী অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা দড়ি ধরে প্রতি ওয়াক্তে মসজিদে যেতেন। ছবি : সংগৃহীত

নাটোরের বড়াইগ্রামের ১২০ বছর বয়সী অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (০৬ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জানাজার নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে আগে রোববার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান তিনি। আব্দুর রহমান মোল্লা বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের বড়দেহা গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় দৃষ্টিশক্তি হারান আব্দুর রহমান। এর ৬ বছর পর বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পবিত্র হজ পালন করেন তিনি। দেশে ফিরে নিজ গ্রামে ৫ শতাংশ জমির ওপর তৈরি করেন পাকা মসজিদ। মসজিদের নামেই জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর নিজেই সেই মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কিন্তু চোখে দেখতে না পাওয়ায় জটিলতা দেখা দেয় মসজিদে আসা-যাওয়া নিয়ে। সেই প্রতিবন্ধকতাও জয় করে ফেলেন শতবর্ষী এ বৃদ্ধ। সন্তানরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত টেনে দেন দড়ি ও বাঁশ। এরপর দড়ি আর বাঁশের সাহায্যে নিয়মিত মসজিদে যেতেন তিনি।

আব্দুর রহমান মোল্লার ছেলে স্কুলশিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম সাইফুল বলেন, হজ পালন করে আসার পর বাবা মসজিদ স্থাপন করে সেখানে ৫ ওয়াক্ত নামাজের আজান দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু বাড়ি থেকে মসজিদের দূরত্ব প্রায় ২০০ মিটার। আসা-যাওয়া নিয়ে তখনই জটিলতা দেখা দেয়। সেই জটিলতাও নিরসনের পথ বাতলে নেন আব্দুর রহমান মোল্লা নিজেই। বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তায় দড়ি ও বাঁশ টানিয়ে দিতে বলেন।

বাবার পরামর্শে দড়ি ও বাঁশ টানিয়ে দেন ছেলেরা। এরপর প্রথম দিকে কয়েকদিন তার ছেলে ও নাতিরা দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে তাকে যাতায়াত ও রাস্তা পার হতে অভ্যস্ত করে তোলেন।

এ ছাড়া বাঁশ ও দড়ি খুঁজে পেতে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি লাঠি। এরপর থেকে তিনি নিজেই দড়ি ও বাঁশের সাহায্যে বাড়ি থেকে মসজিদে যেতেন।

নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ বলেন, বড়াইগ্রাম উপজেলার সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ ছিলেন তিনি। দুই চোখ অন্ধ হওয়া স্বত্ত্বেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইসলামের প্রচার-প্রসারসহ মানুষকে ধর্মের পথে আনতে তিনি যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তা সত্যিই বিরল। তার মৃত্যুতে সবাই গভীরভাবে মর্মাহত। আমি তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতবে মরক্কো: মামদানি

মালদ্বীপ-বাংলাদেশ ম্যাচে উত্তেজনা, শেষ মুহূর্তে সংঘর্ষ ১-১ গোলে ড্র

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক হলেন সিসিক প্রশাসক

নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি অবশ্যই মেনে নিতে হবে : ট্রাম্প

দিনাজপুরে জমে উঠেছে লিচুর বাজার

শয়তানের মূল ঘাঁটি তেহরানে : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ভুয়া কমিটি নিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সতর্কবার্তা

৪,৬৯০ অবৈধ প্রবাসীকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল সৌদি, গ্রেপ্তার আরও ৭ হাজার

ইসরায়েলের হামলার পর এবার বড় সিদ্ধান্ত নিলো ইরান

সৌদি আরব / প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতা

১০

বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা, গেটের সামনেই প্রধান শিক্ষককে মারধর

১১

গভীর রাতে ফেলে যাওয়া কাফনের কাপড়ে আরবি হরফ ঘিরে রহস্য

১২

বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে বড় হোঁচট খেল ব্রাজিল

১৩

রাঙামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২১ জন আটক

১৪

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ, পুলিশ বলছে আলামত নেই

১৫

মাঠে ফের লুটিয়ে পড়লেন এরিকসেন, জ্ঞান ফিরেছে হাসপাতালে

১৬

নগ্ন ভিডিও ধারণ করে পর্নোগ্রাফি, স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

১৭

ইরাকে দুর্ঘটনার পর বাসে আগুন, হতাহত ৪০

১৮

সড়কে প্রাণ গেল শিশুসহ ২ জনের

১৯

বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া প্রাইমকোডের ওপরই পিচ ডালাই

২০
X