

কক্সবাজারের টেকনাফে গহীন পাহাড় থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় উপকূলীয় বাহারছড়া উত্তর শীলখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—নুরুল কবিরের ছেলে মুজিবুর রহমান, নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর এবং রুহুল আমিনের ছেলে রবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে মোর্শেদ আলম নামের এক সন্ত্রাসী রবি আলমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে মোর্শেদ আলম তার ভাই মুজিবুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় শামলাপুর এলাকার একটি ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, নুরুল বশরকে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি গোপন আস্তানা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একই স্থান থেকে পুলিশ রবি আলমের মরদেহ উদ্ধার করে।
গোপন সূত্রে জানা গেছে, মোর্শেদ আলম গ্রুপ ও অজ্ঞাত আরেকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মোর্শেদ আলম তার আপন ভাই মুজিবুর রহমান, চাচাতো ভাই রবি আলম এবং নুরুল বশরকে গোপন আস্তানায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা সংঘর্ষের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ঘটনার মূল রহস্য মোর্শেদ আলমের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে। আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন, নিহতরা অপহরণ চক্রের সদস্য হতে পারে এবং কোনো ভিকটিম কৌশলে পালানোর সময় তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দূর্জয় বিশ্বাস ও টেকনাফ মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা সুকান্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
টেকনাফ মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা সুকান্ত বলেন, আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে।
অন্যদিকে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে গতকাল রাতে একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন— বাহাদুরপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি খাতুন (৩০) এবং তাদের ছেলে পারভেজ হোসেন (১০) ও মেয়ে সাদিয়া খাতুন (৩)।
নিহতদের মধ্যে হাবিবুর ও তার স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তান পারভেজ ও সাদিয়াকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। পারভেজ বাহাদুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে হাবিবুর রহমানের বাবা নমির হোসেন ছেলের ঘরের দরজার সামনে রক্ত দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করে খাটের ওপর চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় চারজনের লাশ দেখতে পান। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হন এবং পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান পেশায় একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। মান্দার চৌবাড়িয়া হাটে গরু বিক্রি করে সোমবার রাত ৮টার দিকে বাড়িতে আসেন। তার কাছে গরু বিক্রির দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা হাবিবুরের টাকা লুটের জন্য তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। এছাড়া বাড়িতে থাকা স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে নিয়ে গেছে। হাবিবুরের স্ত্রী পপি খাতুনের কানের রিং ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের মধ্যে বাড়ির কর্তা হাবিবুর ও স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের সন্তানদের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ডাকাতি করার উদ্দেশে দুর্বৃত্তরা ওই বাড়িতে প্রবেশ করেছিল। ডাকাতি করার পর পরিচয় প্রকাশ হওয়ার ভয়ে ওই বাড়ির কর্তাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করেছে।