দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বর্ষার আগেই ডিঙি নৌকা তৈরির ধুম

নৌকা তৈরী করছেন হাওর পাড়ের মানুষ । ছবি : কালবেলা
নৌকা তৈরী করছেন হাওর পাড়ের মানুষ । ছবি : কালবেলা

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা নদীর তীরবর্তী ও হাওর অঞ্চলে ডিঙি নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে। কাঠ কাটা ও হাতুড়ি পেটার শব্দে মুখরিত চারপাশ। তৈরি হচ্ছে মাছ ধরা ও বর্ষায় চলাচলের ডিঙি নৌকা। নতুন তৈরি ও মেরামত করা এসব নৌকা বর্ষায় সুরমা নদীসহ বিভিন্ন হাওরে নামবে। তাই কৃষক, জেলে ও কারিগররা এখন দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না। তারা দিনরাত সমানতালে নৌকা তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, উপজেলার সদর সংলগ্ন সুরমা নদী, নাইন্দার হাওর, পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের দেখার হাওর এবং দোহালিয়া ও মান্নারগাঁও ইউনিয়নসহ নিম্নাঞ্চলের জেলেরা বর্ষায় নৌকা দিয়ে মাছ শিকার করেন। বর্ষা শুরুর আগেই হাওর-নদীতে নামার প্রস্তুতি হিসেবে এ সময় নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়। সেই চাহিদা মেটাতে হাওর, খাল ও নদীর পাড়জুড়ে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী নৌকা তৈরির কর্মযজ্ঞ।

সরেজমিনে উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের শরিফপুর গ্রামে সুরমা নদীর তীরে গিয়ে সারি সারি ডিঙি নৌকা তৈরির দৃশ্য দেখা যায়। কোথাও নতুন নৌকার কাঠামো দাঁড় করানো হচ্ছে, কোথাও পুরোনো নৌকায় লাগানো হচ্ছে আলকাতরা। কেউ পেরেক ও লোহার পাত দিয়ে কাঠ জোড়া দিচ্ছেন, আবার কেউ জোড়াতালি দিয়ে নৌকাকে নতুন করে হাওর-নদীতে নামানোর উপযোগী করে তুলছেন।

কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারা বছর কাজ না থাকলেও বর্ষা মৌসুমের আগে তাদের হাতে কাজের অভাব থাকে না। তবে এবার কাঠ, লোহা, আলকাতরাসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ কমে গেছে।

নৌকা তৈরির কারিগর আবুল মিয়া বলেন, ‘আমরা অর্ডার নিয়ে ট্রলার ও নৌকা তৈরি করি। কড়ই, হিজল, মেহগনি ও জারুল কাঠ দিয়ে বেশির ভাগ নৌকা তৈরি করা হয়। সঙ্গে লাগে আলকাতরা, বাঁশ, তারকাঁটা ও লোহার পাত। এসব নৌকা হাওর-নদীতে মাছ ধরাসহ বর্ষায় পারাপারের কাজে ব্যবহার হবে।’

তিনি আরও জানান, আকার ও সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে একটি ডিঙি নৌকা তৈরিতে ১৫-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। পুরোনো নৌকা মেরামতে খরচ হয় ৫-৭ হাজার টাকা। আবার আকারভেদে ট্রলার তৈরিতে ১ লাখ থেকে শুরু করে ৫-৬ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, দোয়ারাবাজার উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি। সব মিলিয়ে উপজেলায় ১০-১৫ হাজারের মতো জেলে আছেন। তাদের ৯০ শতাংশই ছোট ডিঙি নৌকা দিয়ে মাছ ধরেন। অল্পসংখ্যক জেলে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ব্যবহার করেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুষার কান্তি বর্মন জানান, প্রতি বছর উপজেলায় ছোট-বড় শতাধিক নৌকা তৈরি হয়ে থাকে। ইঞ্জিনচালিত ট্রলারের সংখ্যা হাতেগোনা কয়েকটি। অনেক জেলে পেশা পরিবর্তনের কারণে নৌকার সংখ্যা কিছুটা কমছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানি হামলার আশঙ্কায় কুয়েতের আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ

তারেক রহমানের সরকারের প্রথম বাজেট, গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব বিষয়

পুলিশ দেখে খিচুড়ি রেখে পালালেন নেতাকর্মীরা, ২ ছাত্রলীগ কর্মী আটক

আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি : ট্রাম্প

ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণায় বাড়ল তেলের দাম

হরমুজ প্রণালিতে মুখোমুখি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দূর করতে ৫ বছরের পরিকল্পনা, নতুন প্রকল্পের উদ্যোগ

৭ অঞ্চলে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরেও সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘নরকসম’ জবাব দেবে ইরান : মজিদ মুসাভি

সিএনজিচালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করল কিশোর গ্যাং

১০

আজকের নামাজের সময়সূচি

১১

দুই দেশে হামলা চালাল ইরান

১২

দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র ভৈরব, ককটেল বিস্ফোরণে পুলিশসহ আহত ৩০

১৩

আজ পর্দা উঠছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের’

১৪

রাজধানীর যেসব এলাকায় আজ মার্কেট বন্ধ

১৫

জীবন বাঁচাতে চুপ করে গেছি : মাহফুজ আলম

১৬

হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা তেহরানের

১৭

আজকের এই দিনে ইতিহাসের স্মরণীয় ঘটনা

১৮

ইরানে আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

১৯

তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা আজ

২০
X