কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
আপডেট : ২৮ মে ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নজরুলগীতি গেয়ে ভাইরাল ‘লাইলী বেগম’, কী করেন তিনি

লাইলী বেগম। ছবি : সংগৃহীত
লাইলী বেগম। ছবি : সংগৃহীত

একটি গানই বদলে দিয়েছে পরিচয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরুলসংগীত গেয়ে ভাইরাল হওয়া লাইলী বেগম এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে ফরিদপুর শহরের মানুষের কাছে তিনি বহুদিন ধরেই পরিচিত ‘লাইলী খালা’, ‘লাইলী পাগলি’ কিংবা ‘মাটির শিল্পী’ নামে।

৬৫ বছর বয়সী এই ভবঘুরে শিল্পীর জীবন কেটেছে পথেই। শহরের অলিগলি, মেলা, মাজার কিংবা গানের আসর— যেখানেই গান, সেখানেই উপস্থিত হন তিনি। দাওয়াত থাকুক বা না থাকুক, সুযোগ পেলেই গান ধরেন। কারণ গানই তার জীবন, গানই তার আশ্রয়।

সম্প্রতি ফরিদপুরে নজরুল জয়ন্তীর এক অনুষ্ঠানে কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গান ‘নয়ন ভরা জল গো তোমার আঁচল ভরা ফুল’ পরিবেশন করেন লাইলী বেগম। তার কণ্ঠে গানটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যান তিনি।

শহরতলির হারুকান্দি এলাকায় ছোট্ট একটি ঘর থাকলেও সেখানে স্থায়ীভাবে থাকেন না লাইলী বেগম। কখনো মাজারে, কখনো পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের বাড়িতে, আবার কখনো কোনো গানের আসরে রাত কাটান তিনি। কাঁধে একটি থলে আর গায়ে জীর্ণ পোশাক— এভাবেই তার দিনযাপন।

স্থানীয়রা জানান, শৈশবেই মা-বাবাকে হারান লাইলী বেগম। এমনকি তাদের পরিচয়ও জানেন না তিনি। পরে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার এক নারী তাকে লালন-পালন করেন। পালিত মায়ের কাছ থেকেই গান শেখা শুরু। তিনিই হারমোনিয়াম কিনে দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন গানের আসরে নিয়ে যেতেন।

লাইলী বেগম ছিলেন হারুকান্দি এলাকার মৃত শেখ ইসলামের প্রথম স্ত্রী। তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। তবে প্রায় ১৩ থেকে ১৫ বছর আগে স্বামীর সংসার ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। পরে আর স্থায়ীভাবে বাড়ি ফেরেননি।

নিজের জীবন নিয়ে লাইলী বেগম বলেন, ‘গানই আমার জীবন। গান ছাড়া আমি বাঁচতে পারি না। গান মানুষের আত্মার খোরাক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কেউ মূল্যায়ন করে না। তবে আমি মানুষের ভালোবাসা পাই, এটাই বড় কথা।’

ফরিদপুরের প্রবীণ সংস্কৃতিকর্মী আলতাফ হোসেন বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে তাকে দেখছি। তিনি খুব ভালো মনের মানুষ। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান, গান করেন, কিন্তু কারও কোনো ক্ষতি করেন না।’

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম বলেন, ‘লাইলী বেগম শিল্প-সংস্কৃতির মানুষের কাছে পরিচিত মুখ। তিনি খুব মানবিক একজন মানুষ। একবার একটি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার পর তাকে ৩০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি ১০০ টাকা ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন—‘অত লাগবে না, যাগো পেটে খিদে, তাগো বেশি দেন।’

পথে পথে ঘুরে বেড়ানো সেই শিল্পী আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল। তবে তার কাছে এখনো সবচেয়ে বড় পরিচয়— তিনি একজন গানের মানুষ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বন্দুকধারীর মধ্যে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ১২

হাইকোর্টে নথি পৌছালে দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেয়া হবে: অ্যাটর্নি জেনারেল 

রামিসা হত্যা মামলা: আদালতের রায়কে স্বাগত জানাল জনতা

নদীর চরে পড়ে ছিল জেলের মরদেহ 

সিলেট সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল জোরদার

রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ সেই শিশুর বাবার, দ্রুত কার্যকরের দাবি

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা নিহত

মধ্যস্থতার বার্তা নিয়ে তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নতুন বাজেটে পে-স্কেল নিয়ে বড় ধামাকা

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা / বড় অঙ্কের জরিমানাও দিতে হবে সোহেল-স্বপ্নাকে

১০

 বাহরাইন-কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

১১

ঈদযাত্রায় প্রাণ হারালেন ৪৩৮ জন

১২

নতুন উড়োজাহাজ কিনছে আমিরাতের ইতিহাদ এয়ারওয়েজ

১৩

চট্টগ্রামজুড়ে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা

১৪

গাজায় শৌচাগার সংকটে মানবেতর জীবন, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

১৫

চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু

১৬

‘শুধু ফাঁসির আদেশ দিলেই হবে না, কার্যকরও করতে হবে’

১৭

পল্লবীর সেই ধর্ষণ ও হত্যা মামলা : আদালতে যা প্রমাণিত হলো

১৮

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা / রায়ের পর কাঁদছেন স্বপ্না, নির্বাক সোহেল

১৯

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা / আসামি সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

২০
X