

বাড়ির উঠানের দুপাশে দুটো জরাজীর্ণ টিনের ঘর। এক ঘরের বিছানায় মাথায় ব্রেন টিউমারের অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে কাতরাচ্ছেন বাবা আবুল হাসিম (৭০)। আরেক ঘরের বিছানায় কাতরাচ্ছেন ক্যানসারে আক্রান্ত তার বড় ছেলে দিলোয়ার হোসেন লিটন। অর্থাভাবে মিলছে না তাদের চিকিৎসা।
তারা ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের গাভীশিমুল গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানান, আবুল হাসিম পেশায় দর্জি ও তার ছেলে পেশায় অটোরিকশা চালক। একসময় যাদের উপার্জনে সংসারের চাকা ঘুরত। এখন টাকার অভাবে তাদের ভালো চিকিৎসা করাতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, দিলোয়ার হোসেনের লিটনের সংসারে স্ত্রী, দুই ছেলে আর এক মেয়ে রয়েছে। হাসিখুশিতে কাটছিল সুখের সংসার। বড় মেয়ে জিনিয়া আফরিন গাভীশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে, ছেলে জাহিদ হাসান মাহিম মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ছোট ছেলে মাহমুদুল হাসান জিহাদের বয়স তিন বছর।
দিলোয়ার হোসেন লিটনের স্ত্রী জায়েদা আক্তার বলেন, সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিই আজ দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত। এ পর্যন্ত ৭টি কেমো দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আমিনুল ইসলাম ও একই হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের (ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্র) আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম পাঠানের তত্ত্ববাবধানে তার চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।
জায়েদা আক্তার বলেন, মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু ছাড়া আর কোনো সহায়-সম্পদ নেই। ইতোমধ্যে চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং নিজের যা ছিল সব শেষ করে দিয়েছি। এখন সন্তানদের মুখে তিনবেলা খাবার দেব সেইটুকু সামর্থ্যও নেই। চিকিৎসা চালালে আরও ৪-৫ লাখ টাকা প্রয়োজন।
এদিকে ছেলেকে বাঁচাতে যখন পুরো পরিবার দিশেহারা ঠিক তখনই অসুস্থ হয়ে পড়েন দিলোয়ার হোসেন লিটনের বাবা আবুল হাসিম।
গত ৭ জুলাই চিকিৎসকরা জানান, ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত তিনি। ছেলের ক্যানসারের পর বাবার ব্রেনে টিউমার শুনে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো পরিবার। তিনি এক সময় দর্জি পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। কর্মের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের গৌরীপুর উপজেলা শাখার কার্যকরী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শহীদুল্লাহ জানান, বাবা-ছেলের চিকিৎসার জন্য আমরা সামর্থ্যনুযায়ী সহযোগিতা করছি। সরকার, বিত্তবান মানবিক মানুষ ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ যদি এগিয়ে আসেন, হয়তো তাহলে বাবা-ছেলের চিকিৎসা কার্যক্রমটা চলবে। অর্থাভাবে যেন চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ না হয়ে যায়, সেই জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহফুজ ইবনে আইয়ুব বলেন, ছেলের ক্যানসার চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরে আবেদন করলে তথ্য যাচাই এর মাধ্যমে ১ লাখ টাকা অনুদান পাবে। আর বাবার চিকিৎসার জন্য আবেদন করলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।