কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:০৪ পিএম
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২:৩৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

স্লুইস গেটের অভাবে দুর্ভোগে আট গ্রামের মানুষ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে অবহেলিত স্লুইসগেট। ছবি : কালবেলা
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে অবহেলিত স্লুইসগেট। ছবি : কালবেলা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর বালিগাঁও হয়ে মোকাম টিলার দিকে পা রাখতেই হাতের বাম দিকে চোখে পড়বে বালিয়া ছড়ার (পাহাড়ি খাল) উপরে একটি স্লুইস গেট। ১০ বছর আগে নির্মাণ করা এ স্লুইস গেটের এখন কোনো গেট নেই। পাশ থেকে মাটিও ক্ষয়ে গেছে। তাই স্লুইস গেটের ভেতর কিংবা এর আশপাশ দিয়ে পানির আসা-যাওয়ায় কোনো বাধা নেই।

আবার ছড়াটির প্রস্থ ও গভীরতা কত তারও সঠিক মাপ নেই। কোথাও ১০ ফুট কোথাও ১৫ ফুট আবার কোথাও মাত্র ২ ফুট। গভীরতার ক্ষেত্রেও এমন বিপর্যয়। কোথাও কোথাও ছড়াটির মাঝখানে গাছ বাগান। তাই একটু বৃষ্টি হলেই উত্তর বালিগাঁও মণিপুরী পল্লীর প্রতিটি বাড়ির উঠান পানিতে ডুবে যায়।

স্লুইস গেটটিতে পানি আটকানোর যে গেট থাকার কথা তা ক্ষয়ে গেছে অনেক আগেই। এ অবস্থায় যে খালের পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই খালটি বর্তমানে গেটের ভেতর দিয়ে না গিয়ে গতিপথ বদল করে এর পাশ দিয়েই বয়ে যাচ্ছে। তাই ছড়াটি খনন করে সঠিক জায়গায় একটি স্লুইস গেট নির্মাণ এখন সময়ের দাবী মাত্র।

স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, এই স্লুইস গেটটি নির্মাণ করার কথা ছিল সদর ইউনিয়ন পরিষদের সম্মুখে। সেখানে নির্মাণ করলে কয়েক হাজার কৃষক উপকৃত হতো। যেখানে স্লুইস গেটটি নির্মাণ করা হয়েছে তার আশপাশে নেই কোনো বোরো চাষের জায়গা।

তারপরেও ২০১৪ সালে সেভরন কর্তৃক অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয় স্লুইস গেটটি। তাই নির্মাণ করার পরে এটা কারো কোনো কাজে আসেনি। এ ছাড়া এই স্লুইস গেট এখানে কার নির্দেশায় নির্মাণ করা হয়েছে কিংবা এর দেখভালের দায়িত্ব কার সেটিও জানেন না তারা। তদুপরি এর নির্মাণ ব্যয়ের হিসাব কোথাও উল্লেখ নেই।

ইউনিয়ন পরিষদের সম্মুখে দেখা হয় ছাতকছড়া গ্রামের কৃষক কামাল মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান ১০ বছর আগে নির্মাণের পর এটিকে কেউ দেখতেও আসেননি। তাই এর কোনো সংস্কারও হয়নি। পাশের খালটিও ভরাট করতে কেউ আসেননি। কৃষকরা অবশ্য নিজ উদ্যোগে জমির ফসল রক্ষার্থে স্লুইস গেটের ২ কিলোমিটার পেছনে একটি বাঁধ তৈরি করেন প্রতিবছর।

স্থানীয় বাসিন্দা চিনু লাল দে বলেন, বালিছড়া খনন হয়নি অনেক দিন ধরে। ছড়া খনন করে পরিকল্পিতভাবে একটি স্লুইস গেট স্থাপন করলে কয়েক গ্রামের কৃষক উপকৃত হবেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নদীতে স্থায়ী স্লুইচ গেট নির্মাণের দাবিতে স্থানীয় কৃষকরা ১৯৯৮ সালে মৌলভীবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেন। তখন উত্তর বালিগাঁও প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন এলাকায় বালিয়াছড়ার ওপর স্লুইস গেট নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী লিখিতভাবে দাবি জানিয়েছিলেন। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে তিনি তখন ওই স্থানে স্লুইস গেট নির্মাণের আশ্বাসও দিয়েছিলেন। কিন্তু অদ্যাবধি সে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হওয়াতে কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।

কমলগঞ্জ সদর ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সোলেমান হুসেন ভুট্টো জানান, কৃষকরা উৎসাহ নিয়ে আবার কৃষি জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন। কিন্তু বালিয়াছড়ায় স্লুইচগেট নির্মাণ না হওয়াতে প্রতিবছর ইউপির অর্থায়নে এবং স্থানীদের সহযোগিতায় অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে বোরো চাষ করা হচ্ছে। এলাকায় একটি স্লুইসগেট নির্মিত হলে এলাকার প্রায় ৬০০ একর জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং কৃষকরা উপকৃত হবে।

কমলগঞ্জ সদর ইউপির চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হান্নান কালবেলাকে জানান, আমার ইউনিয়ন পরিষদের একটি স্লুইস গেটের আবশ্যক আমার ইউনিয়নের উত্তর পাশে বালিয়াছড়াতে একটি স্লুইস গেট দিলে চার শত কৃষক উপকৃত হবে এবং বোরো চাষ করতে পারবে এজন্য আমি এলজিডির মাধ্যমে অনেক আগেই প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, আমাদের প্রকল্প জাইকার অর্থায়নে এসএস-ডব্লিউ ২ প্রকল্প থেকে আমরা এ জিনিসগুলো উন্নয়ন করে থাকি। যেখানে আমরা সে প্রকল্প থেকে আমাদের উপজেলায় অদ্যাবধি ৮টা প্রকল্প আছে। গত বছরের ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে আমরা এখানে একটা নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা করেছি। সেটি বালিয়া ছাড়ায় প্রকল্প। আশা করি আমাদের প্রকল্প থেকে আমরা উন্নয়ন করতে পারব। এখানে স্লুইসগেট নির্মাণ করা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই হলের নাম পরিবর্তন

সাবেক ছাত্রদল নেতার ওপর দফায় দফায় হামলার অভিযোগ

জবির হল সংসদে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত প্যানেলের জয়

বিজয়ী হয়ে যা বললেন রিয়াজুল

সুখবর পেলেন বিএনপি নেত্রী রাহেনা

এবার সহযোগিতা চাইলেন আমজনতার তারেক

গোপালগঞ্জে শতাধিক আ.লীগ কর্মীর বিএনপিতে যোগদান

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কবে নামছে বাংলাদেশ, কারা প্রতিপক্ষ—জানাল আইসিসি

এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি করে হত্যার সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল

১০

শীর্ষ ৩ পদে কত ভোট পেয়ে জিতল ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল

১১

জকসু নির্বাচনে শীর্ষ তিন পদেই ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের জয়

১২

জুলাইয়ে বীরত্ব : সম্মাননা পেল ১২শ আহত, শহীদ পরিবার ও সাংবাদিক

১৩

পাকিস্তানের আকাশসীমায় অসুস্থ হওয়া বিমানের যাত্রীর মৃত্যু, তদন্তের মুখে পাইলট

১৪

ফারহানের ফিফটিতে লঙ্কান দুর্গে পাকিস্তানের দাপুটে জয়

১৫

আয় ও সম্পদ নিয়ে অপপ্রচার, মুখ খুললেন নাহিদ ইসলাম

১৬

৪৮৯ উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন থাকবে

১৭

ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যায় মামলা, বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

১৮

কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল আবছারকে কারাদণ্ড

১৯

‘সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীরা বাড়ির বাইরে থাকতে পারবে না’

২০
X