টেকনাফে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে আবারও গোলাগুলির বিকট শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন সীমান্তপাড়ের লোকজন। তিন দিন শান্ত থাকার পর গোলাগুলির বিকট শব্দ সীমান্তের বাসিন্দাদের মাঝে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ও হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে এই গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতের জেরে সোমবার বিকেল ৪টার পর থেকে আর কোনো বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। কিন্তু তিন দিন পর শুক্রবার (১ মার্চ) ভোর থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী উনচিপ্রাং, কাঞ্জরপাড়া এবং হ্নীলা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ফুলেরডেইলসহ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা জানান, নাফ নদীর ওপারে অন্তত ২ থেকে ৩ কিলোমিটার ভেতরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বলিবাজার ও নাকপুরা এলাকা ঘিরে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত চলছে। এতে গোলাগুলি ও মর্টার শেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ভেসে আসে এপারেও।
এ সময় আকাশের অনেক উঁচু থেকে চক্কর দিতে দিতে বিমানযোগে মর্টার শেল বা বোমা বর্ষণেরও ঘটনা দেখা গেছে। মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর সদস্যরা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বলিবাজার এলাকায় এই হামলা চালিয়েছে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। শুক্রবার ভোর ৩টা থেকে দুপুর পর্যন্ত থেমে থেমে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন তারা।
টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, তিন দিন পর সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। শুক্রবার ভোর থেকে থেমে থেমে শুরু হয় গোলাবর্ষণের বিকট শব্দ। সকাল ৯টার পর তা থেমে যায়। পরে সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত টানা বিকট শব্দ ভেসে এসেছে। ওই সময় মিয়ানমারের বলিবাজার ও নাকপুরা পাড়ার দিকে আকাশে বিমানের চক্কর দিতে দেখা গেছে। বিমান থেকে গুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে। তবে দুপুরের পর থেকে শব্দ কমলেও এখনো থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছ।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, তিন দিন পর আবারও গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। সীমান্তের লোকজন আতংকে রয়েছেন।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (বিজিবি-২) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সদস্যদের তৎপর রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন