মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৪, ০৮:৩৩ এএম
আপডেট : ০৬ মে ২০২৪, ০৯:২১ এএম
অনলাইন সংস্করণ

পাহাড়ে রক্তরাঙা কৃষ্ণচূড়ার নান্দনিক সৌন্দর্য

কৃষ্ণচূড়া ফুল। ছবি : কালবেলা
কৃষ্ণচূড়া ফুল। ছবি : কালবেলা

তীব্র তাপপ্রবাহে পাহাড়ের জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই একটি কৃষ্ণচূড়ার গাছের ছায়ায় বসে পথিক এক মুঠো সুখ অনুভব করে। একইভাবে তার অপরূপ সৌন্দর্য বিমোহিত করে। গাছটির নিছে বসে দূর আকাশে তাকিয়ে মৃদু বাতাসে কবিতা লিখতে পারার দক্ষতা আপনার মনে নতুন স্বপ্ন জাগিয়ে তুলতে পারে। এগুলো খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় বিভিন্ন স্থানে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছের ফুলের সৌন্দর্যের কথা।

গ্রীষ্মের খরতাপে রুক্ষতা ছাপিয়ে কৃষ্ণচূড়ার ফুল মেলে ধরেছে নিজের সৌন্দর্য। গাছের ডালপালাজুড়ে শুধুই কৃষ্ণচূড়া ফুলের সমারোহ। এই ফুলের অপরূপ দৃশ্য যে কারও চোখে ও মনে এনে দিতে পারে শিল্পের দ্যোতনা।

মাটিরাঙ্গার বিভিন্ন জনপথ ও বসতবাড়ির আঙিনায় ছড়িয়ে পড়েছে রক্তরাঙা কৃষ্ণচূড়ার জৌলুস। থোকায় থোকায় ফুল ফুটেছে গাছে। সবুজের বুকে এক খণ্ড লালের রাজত্ব। দূর থেকে দেখে মনে হয় ময়ূর প্রকৃতির মাঝে রাঙা পেখম মেলে ধরেছে। আর এসব কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন ফুলপ্রিয় পথিক। কেউ তুলছেন ছবি কেউবা সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদের পুরাতন ভবনের উপরে ও সম্মুখে, সরকারি ডিগ্রি কলেজের সম্মুখভাগে, পৌরসভার প্রবেশ পথ, চৌরাস্তার ধারসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সৌরভ ও সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে দৃষ্টিনন্দন এই ফুল। এই গাছ চমৎকার পাতা পল্লব আর আগুনলাল কৃষ্ণচূড়া-ফুলের জন্য প্রসিদ্ধ। কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল-কমলা-হলুদ ফুল ও উজ্জ্বল সবুজ পাতা একে অন্যরকম দৃষ্টিনন্দন করে তোলে।

কৃষ্ণচূড়ার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। এটি সিসালপিনিয়েসি গোত্রের অন্তর্গত একটি উদ্ভিদ। কৃষ্ণচূড়া লাল, হলুদ ও সাদা রঙেরও হয়ে থাকে। তবে আমাদের দেশে লাল ও হলুদ রঙের ফুল দেখা গেলেও সাদা রঙের কৃষ্ণচূড়া দেখাই যায় না।

মাটিরাঙ্গা ডিগ্রি কলেজের স্নাতক ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী আসমাউল হুসনা জানান, কলেজে যেতেই চোখে পড়ে কৃষ্ণচূড়া গাছটি। বিশ্রামের ছলে খানিকটা সময় দাঁড়িয়ে তার সৌন্দর্য অনুভব করি। লাল সবুজের মিলনে রক্তিম আভা ছড়ানো কৃষ্ণচূড়া ফুল যেন নিজেদের জীবনে ছড়িয়ে দেয় মুগ্ধতা।

উপজেলায় সেবা নিতে আসা রহিমা বেগম বলেন, এক সময় এরকম গাছ বহুত আছিল, মাইনসে সব গাছ কাইট্টা ফালাইছে এখন আর আগের মতো কৃষ্ণচূড়া গাছ দেহা যায় না।

মাটিরাঙ্গা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান লস্কর জানান, কৃষ্ণচূড়া মূলত তিন জাতের হয়। বেশির ভাগ লোক এর নাম কৃষ্ণচূড়া হিসেবে জানলেও এর অপর নাম গুলমোহন। কৃষ্ণচূড়া ফুল থোকায় থোকায় গাছের ডালে পর্যায়ক্রমে ফুল ফুঁটতে থাকে। সৌন্দর্য বর্ধণে পরিবেশবান্ধব কৃষ্ণচূড়া গাছের পাশাপাশি অন্যান্য গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন তিনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হেঁটে অফিসে গেলেন তারেক রহমান

খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত জকসুর ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের

জকসু ও হল সংসদের নবনির্বাচিতদের নিয়ে প্রজ্ঞাপন

মুসাব্বিরের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সালাহউদ্দিন আহমদের বার্তা

ট্রাম্পকেও পতনের মুখে পড়তে হবে : হুঁশিয়ারি খামেনির

গুলির মুখে বুক পেতে দিচ্ছেন ইরানিরা, রক্তে লাল রাজপথ

সীমান্ত থেকে নয় রাউন্ড গুলিসহ দুই শুটারগান জব্দ

খালেদা জিয়ার ত্যাগের প্রতিদান হবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা : ইশরাক

হাদিসহ সারা দেশে সংঘটিত টার্গেট কিলিংয়ের প্রতিবাদ

রমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অগ্নিদগ্ধ নারীর মৃত্যু

১০

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এবং জাতীয় নির্বাচনে ১১ দল বিজয়ী হবে : রাশেদ প্রধান

১১

তামিমকে নিয়ে বিসিবি কর্মকর্তার মন্তব্যে ক্রিকেটাঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ

১২

স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডেকেছেন তারেক রহমান

১৩

তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

১৪

আকিজ বশির কেবলস্-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

১৫

শনিবার যেসব জেলায় দীর্ঘ সময় থাকবে না বিদ্যুৎ

১৬

মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের নতুন সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে

১৭

সফলতার নেপথ্যে : উচ্চ-দক্ষতাসম্পন্ন মানুষের ১০টি মূলমন্ত্র

১৮

তামিমকে লক্ষ্য করে বিসিবির সেই পরিচালকের নতুন পোস্ট

১৯

ভেনেজুয়েলায় তেল ছাড়াও রয়েছে বিপুল স্বর্ণ ও খনিজ ভাণ্ডার

২০
X