কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘বিচারকদের অবমাননার সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন আর কোনো আপস করবে না’

বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের লোগো। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের লোগো। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে কিছু আইনজীবী কর্তৃক অরাজকতা সৃষ্টি, বিচারককে হুমকি ও অপমান করার ঘটনাকে ফৌজদারি অপরাধ বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আমিরুল ইসলাম ও মহাসচিব মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বিচারিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে, পেশিশক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজ পক্ষে আদেশ আদায়ের অপচেষ্টা স্পষ্টভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলার ওপর আঘাত। এটি একটি সংগঠিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রয়াস, যা রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোকে দুর্বল করার শামিল। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এই ঘটনাকে স্বাধীন বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অপতৎপরতা হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি কর্তৃক ঘোষিত স্বাধীন বিচার বিভাগের রোডম্যাগ বাস্তবায়নের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন ঘটনা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে বিলম্ব করার হীন ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়। এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়, বিচারকদের অবমাননার সঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন আর কোনো আপস করবে না। ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং স্বচ্ছ বিচারিক পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে অ্যাসোসিয়েশন অবিলম্বে দেশের সকল এজলাসে সিসি ক্যামের স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছে।

বিবৃতিতে, এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত দোষী আইনজীবীদের সনদ বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে বার কাউন্সিলের প্রতি দাবি জানিয়েছে। আগামী ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন দেশের সকল জেলা আদালতের বিচারকদের সঙ্গে নিয়ে যে কোনো কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গভীর ক্ষোভ ও চরম উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছে যে, গত ১৭মে দুপুরে ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-১ এর এজলাসে কিছু আইনজীবী কর্তৃক বিচারক ও বিচারকার্যের প্রতি প্রকাশ্য অবমাননা, চিৎকার-চেঁচামেচি, অশ্রাব্য গালিগালাজ, অশালীন মন্তব্য, কোর্টরুমের কজলিস্ট ছুড়ে ফেলা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরাণের যে ন্যক্কারজনক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে, তা দেশের বিচার বিভাগ, বিচারক ও আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি হুমকি এবং সুস্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধ। একপর্যায়ে এমন পরিস্থিতি হয় যে, বিচারককে বাধ্য হয়ে এজলাস ত্যাগ করতে হয়।

প্রকাশিত ভিডিও এবং প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিআর ১৩৬/২৫ মামলার জামিন শুনানির সময় বিজ্ঞ বিচারক আইনানুগভাবে জামিন নামঞ্জুরের আদেশ প্রদান করলে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা খোরশেদ আলম, আব্দুল খালেক মিলন, মো. জাবেদ, মো. ইলিয়াস ও মো. জহিরুল-চরম মাত্রার ঔদ্ধত্যপূর্ণ, অবমাননাকর ও সহিংস আচরণে লিপ্ত হন। আইনজীবী খোরশেদ আলম একটি নথি দেখিয়ে উচ্চস্বরে আঙুল নেড়ে আদালতকে উদ্দেশ করে বলেন, 'ঘটনার তারিখ, ঘটনার সময়, ঘটনার স্থান সেইম- দুইটি মামলা (বাদী আলাদা); এটা হয় নাকি?'। আইনজীবী আব্দুল খালেক মিলন বিচারককে উদ্দেশ করে বলেন, 'শোনেন স্যার, বলতে তো এখন খারাপ শোনা যায়, আমাদের কারণে আজ এই চেয়ারে বসা আপনি'। অপর আইনজীবী মো. জাবেদ জামিনের জন্য পুনরায় শুনানির তারিখ নির্ধারণের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। তিনি বলেন, 'আমরা পুনরায় জামিনের একটা আবেদন করি। আপনি কালকে শুনানির জন্য রাখেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিচারক তাদেরকে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় স্পেশাল পুটআপ নিয়ে চিফ জুডিসিমাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যাওয়ার জন্য বললে আইনজীবীরা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে উক্ত আইনজীবীরা বিচারককে আওয়ামী লীগের দালাল, ফ্যাসিবাদের দোসরসহ নানান অশ্রাব্য গালিগালাজ করতে থাকেন। তারা এজলাসে থাকা কজলিস্টক ছুড়ে ফেলে দেন। তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও অবৈধ বলপ্রয়োগের কারণে বিচারকার্য ব্যাহত হওয়ায় বিচারক এজলাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এই ঘটনার মাধ্যমে শুধু একজন বিচারককে অপমান করা হয়নি, বরং গোটা দেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ভিত্তি কেঁপে উঠেছে। বিচারকের স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে, যা কোনোভাবেই একটি সভ্য, গণতান্ত্রিক ও আইনশাসিত দেশে গ্রহণযোগ্য নয়। এজলাসে অরাজকতা সৃষ্টি, বিচারকের প্রতি হুমকি ও অপমান, এবং বিচারকার্যে অবৈধ বলপ্রয়োগ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ধারা ২২৮ ও ৩৫০ অনুযায়ী গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ধামরাইয়ে হঠাৎ উধাও এলপিজি

গাছ কি ঘরের বাতাস শুদ্ধ করতে পারে

মোহাম্মদপুরে দোকান থেকে ৭০ ভরি স্বর্ণ ও ৬০০ ভরি রুপা চুরি

খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল

বিশ্লেষণ / ভেনেজুয়েলা এখন কার হাতে, কীভাবে চলছে

মহেশপুর সীমান্তে এক দশকে ৩৬ বাংলাদেশি নিহত  

স্কুল থেকে শিক্ষিকার ছেলে নিখোঁজ

দাম্পত্য জীবনে ইতি টানলেন জয়জিৎ-শ্রেয়া

‘ভেনেজুয়েলা কারও উপনিবেশ নয়’, মাদুরো সমর্থকদের বিক্ষোভ

ঢাবি শিবিরের নতুন কমিটি

১০

একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তপশিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

১১

আটকে পড়লেন ডিক্যাপ্রিও

১২

নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক : সিইসি

১৩

চুয়াডাঙ্গায় বইছে শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রির ঘরে 

১৪

ব্যায়ামের জন্য কখন ইলেকট্রোলাইট দরকার, কখন নয়

১৫

বিদেশি লিগে খেলার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন এই টাইগার ক্রিকেটার

১৬

গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ৮ জনের পরিচয় শনাক্ত

১৭

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আফটারশকের আশঙ্কা

১৮

স্কুলের গাছ কাটা নিয়ে আড়াই ঘণ্টা সংঘর্ষ, আহত ২০

১৯

শীতে হাত-পা ঠান্ডা হওয়া কি চিন্তার কারণ

২০
X