

ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (আইসিসি) দেওয়া আলটিমেটাম শেষ হওয়ার আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাঠানো হচ্ছে না বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। তবে শ্রীলঙ্কায় হলে যাবে বলে জানিয়ে দেয় বিসিবি।
এর আগে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে অনড় ও কঠোর অবস্থানে থাকে আইসিসি।
গতকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভা শেষে আইসিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ যদি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে তাদের ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের দশম আসর। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিবর্তে অন্য একটি দলকে নেওয়ার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে আইসিসি।
আইসিসি জানায়, টুর্নামেন্টের সূচি বা ভেন্যু কোনোভাবেই পরিবর্তন সম্ভব নয়। যদি বাংলাদেশ না খেলে, তবে র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে স্কটল্যান্ডকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হতে পারে।
তবে বাংলাদেশ যদি ভারেত না গিয়ে টি-টোয়েন্টি বয়কট করে, তাহলে কী কী হতে পারে, এমন প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আইসিসি প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে ১৩.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬২ কোটি টাকা) এবং বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল নূন্যতম ফি পাবে ৩ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রা হিসেবে ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
এ ছাড়া গ্রুপ পর্ব এবং সুপার এইট পর্বে প্রতি ম্যাচ জয়ের জন্য দলগুলো আলাদাভাবে ৩১ হাজার ১৫৪ মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৭ লাখ টাকা) করে বোনাস পাবে এবং ৫ম থেকে ১২তম স্থান যাদের, তারা পাবে ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা করে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৩৬ কোটি ও রানার্সআপ পাবে প্রায় ২০ কোটি টাকা।
আইসিসির বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো দল নির্ধারিত ভেন্যুতে খেলতে না যায়, তবে সেই ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষ দলকে 'ওয়াকওভার' দেওয়া হয়। এর ফলে বাংলাদেশ কোনো পয়েন্ট পাবে না এবং টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাবে।
আইসিসি চাইলে বাংলাদেশের পরিবর্তে অন্য কোনো দলকে (যেমন: স্কটল্যান্ড) টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
এ ছাড়া আইসিসি এবং সম্প্রচারকারী স্বত্বাধিকারীদের সঙ্গে প্রতিটি বোর্ডের একটি চুক্তি থাকে। টুর্নামেন্ট বয়কট করলে অংশগ্রহণ ফি ও রাজস্ব ভাগের বড় একটি অংশ কেটে নেওয়া হতে পারে।
আইসিসি যদি মনে করে বাংলাদেশের নিরাপত্তার বিষয়টি ‘যৌক্তিক নয়’, তবে তারা আরও কঠোর হতে পারে। ভবিষ্যতে আইসিসির অন্যান্য বড় টুর্নামেন্ট (যেমন: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বা পরবর্তী বিশ্বকাপ) থেকে বাংলাদেশকে সাময়িক নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
সবচেয়ে বড় ক্ষতির শঙ্কা হলো, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে না খেললে বাংলাদেশের র্যাঙ্কিংয়ে বড় ধস নামবে। এর ফলে সরাসরি পরবর্তী বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা কঠিন হয়ে পড়বে এবং সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে বাছাইপর্ব খেলে আসতে হবে।
মন্তব্য করুন