মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘ওয়ান ইলেভেনে’ তারেক রহমানের জামিনে সরাসরি ভূমিকা রেখেছি : মামুন খালেদ

আদালতে প্রাঙ্গণে ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ। ছবি : কালবেলা
আদালতে প্রাঙ্গণে ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ। ছবি : কালবেলা

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ আদালতে বলেছেন, ওয়ান ইলেভেনের (১/১১) সময় তখন আমি কুমিল্লায়। সেই সময়ের সঙ্গে যারা জড়িত তারা সবাই অ্যারেস্ট। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জামিনে সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মিরপুর মডেল থানার এক হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানির সময় অনুমতি চেয়ে আদালতে এসব কথা বলেন মামুন খালেদ।

ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন আদালতে আরও বলেন, জলসিড়ির প্রকল্পের টাকার যে অভিযোগ সেটি হচ্ছে, ‘নজরুল সাহেব’ নামে একজনের ১৫ শো কোটি টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব আমাকে দেন। আমি শুধু উদ্ধারের কাজে ছিলাম। আয়নাঘরের বিষয়ে ২/৩ বার হেয়ারিং দিয়েছি। আমার সময়কালে কোনো অভিযোগ নেই। জুলাইয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর ইউকে (যুক্তরাজ্য) থেকে ব্যাক করে দেশে থেকে যাই।

এছাড়া অবসরের পরবর্তী সময় সম্পর্কে মামুন খালেদ বলেন, বিউইপির ফাউন্ডার ভিসি ছিলাম আমি। জুলাই আন্দোলনের সময় সেখানকার শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হয়। এমনকি এ মামলার অভিযোগে যে জায়গার কথা বলা হয়েছে ওখানে আমার যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। কারণ ডিওএইচএসের বাইরে যাই নাই। ২৪ সালে আমার কথামত কে গুলি করবে? তখন আমি সিভিলিয়ান।

এদিকে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে আদালতে বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদেরকে এ আসামি মামুন খালেদের নির্দেশে হামলা চালানো হয়। সেখানে দেলোয়ার নামে একজন নিহত হন। এ আসামি পূর্বের রাজনৈতিক ইতিহাস সবাই জানেন। ১/১১ এর সময়কার কুশীলবদের সে একজন। তখন সে ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিল। সেসময় এ আসামি ব্যবসায়ী রাজনৈতিক নেতাদের বন্দি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এবং হেনস্তা করে। পরবর্তীতে হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে যারা সহযোগিতা করেছিল তার মধ্যে সে একজন। যার পুরস্কার হিসেবে সে ডিজিএফআই প্রধান হন। তারপরে সে আয়নাঘর তৈরি করে। যেখানে অত্যাচার, গান পাউডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারাসহ নানা অপরাধ করে। পাশাপাশি ডিজিএফআইকে রাজনীতিকরন করার কুশীলব সে। এছাড়াও জলসিড়ি প্রকল্পের কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। যার কারণে ইতোমধ্যে আদালত তার স্ত্রীসহ বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়।

পিপি আরও বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়কে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এক কাপড়ে বাসা থেকে বের করে দেয় এই মামুন খালেদ। যার কারণে হাসিনা অনেক সুযোগ-সুবিধা দেয়। এর জন্য তদন্তের স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হোক। বাদীপক্ষের আইনজীবী ও একই কথা বলেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিন আবেদন করেন। মোরশেদ হোসেন শাহীন আদালতকে বলেন, এ মামলার এজাহারে মামুন খালেদের নাম নেই। বাদী সেখানে নির্দিষ্টভাবে আসামিদের নাম বলে দিয়েছেন। উচ্চ আদালতের আদেশে বলা আছে, যে কোনো মামলা হতে হলে, নির্ভরযোগ্য চারটি কারণ থাকতে হবে তার একটিও রাষ্ট্রপক্ষ দেখাতে পারেনি। সে ওইসময় একজন চাকরিজীবী ছাড়া কিছু ছিলেন না।

আরেক আইনজীবী নজরুল ইসলাম আদালতে বলেন, আসামি মামুন খালেদ ১৬ সালে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষ করেছেন। তিন যুগে ৫ পদে চাকরি করেছে মামুন খালেদ। একটা পদেও আইনবহির্ভূতভাবে সুবিধা নেননি। আয়নাঘরের দায়িত্বে সে ছিলো না। বিগত সরকার পতনের বহু আগে সে অবসরে গিয়েছে। খালেদা জিয়ার সেই বাসা উচ্ছেদে অন ডিউটিতে ছিলেন। এছাড়া জুলাই হত্যা মামলার ঘটনার যে স্থান, সেখানে সে ছিলো না। এছাড়াও মামলায় তার বয়স ৬৩ দেখানো হয়েছে কিন্তু বয়স আরও বেশি। সুতরাং তাকে রিমান্ডে দেওয়ার কিছু নেই। প্রয়োজনে জেলগেট জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। শুনানি শেষে আদালত আসামির ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এদিকে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় ৫/৭ শত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামি শেখ মামুন খালেদের নির্দেশেই আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে এই এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। সে সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২১ জুলাই শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল রহস্য উদঘাটন, এজাহারনামীয় অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, অজ্ঞাতনামাদের সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে, গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দূরপাল্লার নিখুঁত শটে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মিসরের লিড

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, নাকি সংকটের পূর্বাভাস

এভাবেও হৃদয় জয়ের গল্প লেখা যায়

স্পেনকে রুখে দেওয়া কেপ ভার্দে আসলে কেমন দেশ?

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে রুখে দিল কেপ ভার্দে

হবিগঞ্জে দুপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪০

রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী হাসপাতালে ভর্তি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে : মির্জা ফখরুল

প্রথমার্ধে কেপ ভার্দের গোলকিপারের দৃঢ়তায় গোল পায়নি স্পেন

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ১০ কিলোমিটার যানজট

১০

বিশ্বকাপে হাইড্রেশন ব্রেক : কারও কাছে আশীর্বাদ, কারও কাছে অভিশাপ

১১

আইএটি-বুয়েটের ‘এআই যুগে শিক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন’ বিষয়ক সেমিনার

১২

বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিনামূল্যে স্পোর্টস মেডিসিন বোর্ড কনসালটেশন গঠন

১৩

শিক্ষা অফিসারদের গাফিলতিতে অনুদান থেকে বঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীরা

১৪

সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেননি মোজতবা খামেনি, কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র

১৫

দাস বাণিজ্যের রুট থেকে বিশ্বকাপের মহামঞ্চে কেপ ভার্দের অভিষেক

১৬

গ্রাহকদের জন্য সুখবর দিল ইসলামী ব্যাংক 

১৭

‘ইসলামী ব্যাংককে আগের মর্যাদায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে নতুন প্রতিনিধি’

১৮

৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা 

১৯

সংসদে নারীদের বোরকা-হিজাব নিয়ে মন্তব্য, হেফাজতের প্রতিবাদ

২০
X