

কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পুনঃভর্তি ফি নিতে পারবে না। তবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টিউশন ফি গ্রহণ করতে পারবে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে ফি সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষার্থী এক শ্রেণি থেকে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হলে তাকে পুনরায় ভর্তি করার নামে বাড়তি কোনো টাকা নেওয়া চলবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, টিউশন ফি ও সেশন চার্জ আদায়ের প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট উপকমিটি গঠন করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধানের তত্ত্বাবধানে তিনজন সিনিয়র শিক্ষকের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি প্রতি পঞ্জিকা বছরের জন্য ফি আদায়ের বিষয়টি তদারক করবে। কমিটির মাধ্যমেই সকল প্রকার ফি সংগ্রহ করতে হবে এবং এই সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন পরিচালনা পর্ষদের কাছে জমা দিতে হবে।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সার্কুলারের মাধ্যমে পুনঃভর্তি ফি বন্ধের নির্দেশনা দিলেও অনেক ক্ষেত্রে তা অমান্য করার অভিযোগ ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে জনস্বার্থে বাংলাদেশ আইন ও অধিকার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়। তবে সরকার নতুন এই পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারির পর রিটকারী পক্ষের আইনজীবীরা জানান, মন্ত্রণালয়ের নীতিমালায় তাদের দাবির প্রতিফলন ঘটায় এখন রিটটি আর চালিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
নীতিমালা প্রতিপালন নিশ্চিত করতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধানও রাখা হয়েছে।
এতে বলা হয়, কোনোভাবেই পুনঃভর্তি ফি নেওয়া যাবে না, তবে অনুমোদিত টিউশন ফি গ্রহণ করা যাবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষক এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটান, তবে সেটি ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে। এমন অপরাধে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বেতন-ভাতা বা এমপিও স্থগিত করা হতে পারে এবং ক্ষেত্রবিশেষে তাকে বরখাস্তও করা হতে পারে। এছাড়া এ নীতিমালায় অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি বাতিল করার ক্ষমতাও রাখা হয়েছে।