বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৪, ১১:০২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর ট্রেন ছাড়লেন বাকৃবির আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা

আটককৃত জামালপুর কমিউটার ট্রেন। ছবি : কালবেলা
আটককৃত জামালপুর কমিউটার ট্রেন। ছবি : কালবেলা

প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কোটা আন্দোলনকারীরা জামালপুর কমিউটার ট্রেন ছেড়ে দিয়েছেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অবরোধ করে রাখা ট্রেনটি রাত ৯টা ১০ মিনিটে ছেড়ে দিয়েছে। পরে তারা একটি মশাল মিছিল বের করেন আব্দুল জব্বার মোড় থেকে। মিছিলটিকে আর মার্কেটে হয়ে মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা প্রথা সংস্কার এবং সারাদেশে শিক্ষার্থীর ওপর হামলার প্রতিবাদে পঞ্চম দিনের মতো ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আন্দোলন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা।

এর আগে দুপুর ৩ দিকে বিভিন্ন হল থেকে মুক্তমঞ্চে এসে সমবেত হন শিক্ষার্থীরা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে কেআর মার্কেট হয়ে আব্দুল জব্বার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

সকল গ্রেডে (৯ম-২০তম) অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে, সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যায্যতম মাত্রায় এনে সংসদে জরুরি অধিবেশন আহবান এবং সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বাকৃবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।

বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু রেললাইনে আগেই অবস্থান করেছিল বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী। আন্দোলনকারীরা রেললাইন অবরোধ করতে চাইলে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগ বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি ছাড়াই রেললাইন থেকে চলে যায়।

এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেন আটকে দেয়। শিক্ষার্থীরা রেললাইনে বসে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে। বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী মালিহা মাশরাত বলেন, আজকে যৌক্তিক আন্দোলনে আমার ভাইয়ের রক্ত ঝরতেছে, আমার বোনের রক্ত ঝরতেছে। এ কেমন স্বাধীনতা এই কেমন বাংলাদেশ। আন্দোলনে রক্ত ঝরায় দেশের পতাকার সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। যেই ভাই আজকে মাথায় পতাকা বেঁধে আন্দোলন করছে তার মাথায় আঘাত করা হচ্ছে, পিটুনি করা হচ্ছে। যৌক্তিক দাবিতে তাদের দেহের রক্ত ঝরতেছে। আজকে একদম স্পষ্ট করে বলতে চাই আর একজনের দেহের রক্ত যদি ঝরে এই বাকৃবি ছাত্র সমাজ, সারা বাংলার ছাত্র সমাজ জিরো টলারেন্স নীতিতে দাঁড়াবে।

কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ওয়াহিদা আঞ্জুম রিস্তা বলেন, আমি সব সময় মুক্তিযুদ্ধের পরিবারের সদস্য হিসেবে গর্বিত ছিলাম। কিন্তু আমার এখন লজ্জা লাগছে, আমার জন্য আমার ভাইয়েদের রক্ত ঝরতেছে দেখে। আমি আমার ভাইদের অধিকার, বোনদের অধিকার হরণ করে এই কোটা চাই না। আমি চাই এর একটা ব্যবস্থা হোক, কোটা সংস্কার হোক।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

ঘটনাপ্রবাহ: কোটাবিরোধী আন্দোলন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এনসিপির ১৩ নেতার পদত্যাগ

ডিএমএফ’র নবগঠিত কমিটির অভিষেক ও উপদেষ্টা পরিষদ ঘোষণা

বিএনপির জোট প্রার্থীসহ ৫ প্রার্থীকে জরিমানা

নৌপুলিশ বোটে আগুন

দক্ষিণ আমেরিকায় বিমান বিধ্বস্ত, সব আরোহী নিহত

অস্থায়ী মেঘলা ঢাকার আকাশ, তাপমাত্রা কত?

আপনাদের উন্নয়নে-নিরাপত্তায় জীবন উৎসর্গ করতে চাই : শামা ওবায়েদ

রাজধানীতে আজ কোথায় কী

সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায় 

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের রেকর্ড দাম, নতুন ইতিহাস

১০

রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চল সফরে তারেক রহমান, জিয়ারত করবেন শাহ মখদুমের মাজার

১১

২৯ জানুয়ারি : আজকের নামাজের সময়সূচি

১২

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি প্রত্যাখ্যান ইরানের, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি

১৩

বৃহস্পতিবার রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট বন্ধ

১৪

শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় জবিতে বিক্ষোভ

১৫

বিএনপির জয় নিশ্চিত বুঝেই ষড়যন্ত্র হচ্ছে : আবদুস সালাম

১৬

ধানের শীষের বিজয় মানে গণতন্ত্রের বিজয় : অপর্ণা রায়

১৭

কিপারের হেডে রিয়ালের পতন

১৮

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

১৯

যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বিএনপির অঙ্গীকার : রবিউল

২০
X