

চৈত্রের বিদায়ি হাওয়ায় ভেসে আসছে নতুন বছরের আগমনী বার্তা। পুরোনো বছরের ক্লান্তি ঝেড়ে নতুন আশা-উদ্দীপনায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণে প্রস্তুত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, নববর্ষের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে সরগরম চারুকলা অনুষদ। ভবনের তৃতীয় তলায় শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা যেন উৎসবের আগাম আবহ তৈরি করেছে। রঙ, তুলি আর সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে তৈরি হচ্ছে নানান শিল্পকর্ম। কেউ ক্যানভাসে গ্রামীণ জীবনের চিত্র ফুটিয়ে তুলছেন, আবার কেউ ব্যস্ত রঙিন মুখোশ তৈরিতে। বাঘ, সিংহ, প্যাঁচা, কবুতর, ফুল ও পাখির নান্দনিক নকশায় তৈরি এসব মুখোশ বৈশাখী শোভাযাত্রায় যোগ করবে বাড়তি আকর্ষণ।
শুধু মুখোশ নয়, শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে ‘গাহি সাম্যের গান’ মঞ্চে নির্মাণ করা হচ্ছে বিশালাকৃতির একটি পাখির প্রতিকৃতি, যা ইতোমধ্যেই সবার দৃষ্টি কাড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে এবারের আয়োজনকে ঘিরে চলছে নানা পরিকল্পনা।
এবারের বৈশাখী শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। এ উপলক্ষে রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে উপাচার্যের কার্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও ভিন্ন আঙ্গিকে নববর্ষ উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
পহেলা বৈশাখ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী জানান, দুই দিনব্যাপী আয়োজনে থাকছে বৈশাখী শোভাযাত্রা, বৈশাখের গান, ঘুড়ি উৎসব, ধুয়া গান, আবৃত্তি ও গম্ভীরা পরিবেশনা।
পহেলা বৈশাখের দিন সকাল ৯টায় শুরু হবে শোভাযাত্রা। পরে ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও উন্মুক্ত আপ্যায়নের আয়োজন রয়েছে। এছাড়া লাঠিখেলা, ধুয়া গান, কবিতা আবৃত্তি, বাউল গান, নৃত্য, রম্য বিতর্ক ও গম্ভীরা পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী।
অন্যদিকে চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে সোমবার বিকাল ৪টায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে খেলাধুলা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৫টায় মেলা উদ্বোধন ও ঘুড়ি উৎসব, আর সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসজুড়ে পরিবেশিত হবে বাউল গান।