চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:২০ পিএম
আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ছাত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, বাধা দেওয়ায় স্ত্রীর হাত ঝলসালেন চবি শিক্ষক

চবির সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অনাবিল ইহসান। ছবি : সংগৃহীত
চবির সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অনাবিল ইহসান। ছবি : সংগৃহীত

ছাত্রীর সাথে পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে মারধর ও গরম পানি ঢেলে হাত ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নিশাত জাহান (৩০)।

শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে মামলার বিষয়ে কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী নিজেই। ভুক্তভোগী নিশাত জাহান চবির বাংলা বিভাগে এমফিল কোর্স করছেন। তিনি জামালপুর সদর থানার আরামবাগ বোস পাড়ার এস এম নজরুল ইসলামের মেয়ে। অভিযুক্ত অনাবিল ইহসান চবির সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

এদিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করে তদন্তের জন্য হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২২ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদাউস চৌধুরীর আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এরপর আদালতের আদেশ পেয়ে ৫ ডিসেম্বর ৩ আসামির বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় চবি শিক্ষক অনাবিল ইহসান ছাড়াও তার মা শরীফা আক্তার বানু (৫৩) এবং বাবা মো. আব্দুল খালেক বিশ্বাসকে (৬০) আসামি করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তথা দহনকারী গরম পানির মাধ্যমে ভুক্তভোগীর হাতের ক্ষতি, যৌতুকের দাবিতে মারাত্মক জখম ও সহায়তার অপরাধ- মামলায় উল্লেখ করা হয়।

মামলার এজাহারে লেখা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১১ অক্টোবর পারিবারিকভাবে নিশাত জাহানের সঙ্গে অনাবিলের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরযাত্রী আপ্যায়নের পাশাপাশি নিশাতের পরিবারের পক্ষ থেকে অনাবিলকে ৩৭ প্রকারের ফার্নিচার ও তৈজসপত্র উপহার দেওয়া হয়। বিয়ের সময় দেনমোহর ২ লাখ টাকা ধার্য করে এই মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার নিশাতকে দেওয়া হয়। বিয়ের পর নিশাতকে অনাবিলের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিশাতের স্বর্ণালঙ্কার খুলে নেন তার শ্বশুর-শাশুড়ি। এরপর থেকে নানা সময় অনাবিলের জন্য মোটরসাইকেল এবং ভালো জিনিসপত্র উপহার না দেওয়ায় নিশাতকে অপমান করতেন শ্বশুর-শাশুড়ি।

একপর্যায়ে অনাবিল তার স্ত্রীকে নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় চলে আসেন। সেখানে আসার পর থেকে অনাবিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে জমি কেনার জন্য নিশাতকে তার বাবা ও ভাইয়ের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা এনে দিতে বলেন। বাসায় চাপ সৃষ্টি করে নিশাতকে কথায় কথায় মারধর করতেন অনাবিল।

এরই মধ্যে আসামি অনাবিল সংগীত বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দুজনের মধ্যে আদান-প্রদান করা নানা মেসেজ দেখেন নিশাত। বিষয়টি অনাবিলের বাবা-মাকে জানালেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। এসব বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চা বানানোর সময় নিশাতকে মারধর ও হাতে ফুটন্ত চায়ের পানি ঢেলে দেন অনাবিল। এতে নিশাতের বাম হাতের কনুই থেকে নিচের অংশ ঝলসে যায়। পরে ভুক্তভোগী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

ভুক্তভোগী নিশাত জাহান কালবেলাকে জানান, বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করছে স্বামী ও তার পরিবার। আমার পরিবার থেকে টাকা দাবি করেছে। এর মধ্যে অনাবিল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে যায়। রাতে-বিরাতে তার সঙ্গে কথা বলে। সে ঘুমালে আমি সেসব স্ক্রিনশট নিয়েছি তার ফোন থেকে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় গরম পানি ঢেলে দিলে হাত ঝলসে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এমনকি এ বিষয়গুলো গোপন করার জন্য আমাকে সে ফোর্সও করেছে। গত ৬ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর আমি একটি দরখাস্ত করি। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাকে কোন প্রত্যুত্তর দেয়নি। পরে আমি বাধ্য হয়ে মামলা করি তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত চবি শিক্ষক অনাবিল ইহসান কালবেলাকে বলেন, আমি ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীনভাবে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি যেহেতু আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে, সেহেতু সত্য মিথ্যা আদালত সিদ্ধান্ত দিবে।

ছাত্রীর সাথে পরকীয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে যেসব স্ক্রিনশটের কথা বলছে, এসব মিথ্যা, বানানো। গত ২৪ অক্টোবর আমি নিশাত জাহানকে তালাক দিয়েছি। আমার ক্ষতি করার জন্য সে এসব করছে।

তালাকের বিষয়ে জানতে চাইলে নিশাত জাহান বলেন, তার থেকে আমি কোনো ডিভোর্স পেপার পাইনি। তার পরিবার থেকেও আমাকে কোনোকিছু জানানো হয়নি। এমনকি আমরা তাদের সাথে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাইনি। তারা আমার এবং আমার পরিবারের সবার ফোন নম্বর ব্লক করে রেখেছে। তা ছাড়া, আমিও আর তার কাছে ফিরতে চাই না।

হাটহাজারী থানার ওসি মনিরুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একটি দল ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করছে : মাহদী আমিন

উৎসবমুখর পরিবেশে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

গভীর নলকূপ থেকে উদ্ধার শিশুটি মারা গেছে

আবারও স্বর্ণের দামে রেকর্ড

এমপিওভুক্তির আবেদন যাচাইয়ে ১১ সদস্যের কমিটি

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের যে অভিযোগ দিল জামায়াত

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করতে তরুণদের নেতৃত্ব জরুরি : মেয়র ডা. শাহাদাত

গভীর নলকূপে পড়া সেই শিশু উদ্ধার

১৪ বছর পর ঢাকা থেকে করাচি যাবে বিমানের ফ্লাইট 

বিএনপিতে যোগ দিলেন জাতীয় পার্টির ৩ শতাধিক নেতাকর্মী

১০

খেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে চায় ব্যাংকগুলো

১১

সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুত : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

১২

দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়ায় জামায়াত নেতার বাড়িতে আগুন

১৩

নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণা করা হবে : আসিফ

১৪

ক্রেতা দেখলেই মরার ভান ভেড়ার, দামে রেকর্ড

১৫

‘রাজনীতি আমার ইবাদত, এটা দিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ নেই’

১৬

শেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত

১৭

দেশে ফিরে কোন ব্যাটে খেলবেন সাকিব, জানালেন তারই বন্ধু

১৮

ফোনের চার্জিং পোর্টে এই ৫টি জিনিস কখনোই লাগাবেন না

১৯

৫ দফা দাবিতে বারির শ্রমিকদের বিক্ষোভ 

২০
X