কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৫৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কর্মবিরতির ঘোষণা শিক্ষকদের

প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা ঘিরে অনিশ্চয়তা

প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা ঘিরে অনিশ্চয়তা
ছবি : সংগৃহীত

তিন দফা দাবিতে সারা দেশে ফের লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করছেন প্রাথমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষকরা। এই কর্মসূচির কারণে বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া থেকে বিরত থাকবেন সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক।

এতে প্রাথমিকের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। লাগাতার কর্মসূচির মধ্যে দাবি না মানলে আসন্ন বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনসহ ১১ ডিসেম্বর থেকে অনশনে যাওয়ার ঘোষণা আসতে পারে শিক্ষক সংগঠনগুলো থেকে। এতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটির বেশি শিক্ষার্থীর বার্ষিক পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ল।

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক খায়রুন নাহার লিপি কালবেলাকে বলেন, সরকার তার দেওয়া সময়ের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নেয়নি। বাধ্য হয়ে লাগাতার কর্মবিরতিতে যেতে হলো। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই লাগাতার কর্মসূচি চলবে। আশা করি সরকার দ্রুত শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করে অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

অন্য শিক্ষক নেতারা জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে গত ১২ নভেম্বরের মধ্যে ১১তম গ্রেড দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষক হতাশ। এরপর শিক্ষকরা সীমিত পরিসরে কর্মসূচি পালন করেছেন।

তারা বলেন, কিন্তু সরকার শিক্ষকদের ন্যায্য দাবিগুলো উপেক্ষা করে আসছে। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে হচ্ছেন।

এতে আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হতে যাওয়া বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি সহকারী শিক্ষকনির্ভর। ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক সংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮১ জন। এদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক প্রায় ৩৫ হাজার। বাকি সবাই সহকারী শিক্ষক। দেশে বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটি ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৮৫। তাদের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এক কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮১৫ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৫৫.৭৩ শতাংশ।

জানা গেছে, প্রাইমারির সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন দিলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। আর ১১তম গ্রেড বাস্তবায়িত হলে বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ৮৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় জবিতে বিক্ষোভ

বিএনপির জয় নিশ্চিত বুঝেই ষড়যন্ত্র হচ্ছে : আবদুস সালাম

ধানের শীষের বিজয় মানে গণতন্ত্রের বিজয় : অপর্ণা রায়

কিপারের হেডে রিয়ালের পতন

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা বিএনপির অঙ্গীকার : রবিউল

বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি ক্যাম্পাস

বিশ্বকাপের আগে নিষিদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার 

দেশের স্বার্থ রক্ষায় একমাত্র দল হলো বিএনপি : মির্জা আব্বাস

রাতে বিচারকের বাসায় ককটেল হামলা 

১০

ফরিদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ

১১

ইসলামের নামে ধোঁকা দেওয়া সহ্য করবে না মানুষ : ১২ দলীয় জোট 

১২

ভোটে সহিংসতার দায় আ.লীগের কেন, ব্যাখ্যা দিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

১৩

বিএনপির আরও ১১ নেতাকে বহিষ্কার

১৪

চবির নতুন ডিনকে আ.লীগপন্থি দাবি করে জাতীয়তাবাদী ফোরামের ক্ষোভ

১৫

ভারতের কূটনীতিকদের পরিবার সরানোর কোনো কারণ খুঁজে পাই না : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

১৬

বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

১৭

ভিসানীতিতে পরিবর্তন, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের জন্য বড় ধাক্কা

১৮

বিএনপির ৪ নেতার পদত্যাগ

১৯

কবে পদত্যাগ করবেন, জানালেন ডাকসুনেতা সর্বমিত্র চাকমা

২০
X