বিশ্বে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ চক্ষু প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। নিউইয়র্কের একদল চিকিৎসক প্রথমবারের মতো এ কাজটি সম্পন্ন করেছেন। শুক্রবার (১০ নভেম্বর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ চোখ প্রতিস্থাপন করা হলেও এর কার্যকারিতার বিষয়ে তারা এখনও নিশ্চিত নন। তবে প্রতিস্থাপন করা চোখটি সুস্থ দেখাচ্ছে। এর আগে বহু বছর ধরে চোখের কর্ণিয়া প্রতিস্থাপন চলে আসছে।
অ্যারন জেমস নামের এক ব্যক্তিকে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ চক্ষু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এ জন্য তার মুখের অর্ধেকে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ অপারেশন চালানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রতিস্থাপনটি সফল হলে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষের দৃষ্টিশক্তি হারানো মানুষের জন্য নতুন মাইলফলক উন্মোচিত হবে। তখন এটি হবে যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
চোখ প্রতিস্থাপন করা ওই ব্যক্তি ভুলবশত ২০২১ সালে ৭২০০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে চলে যান। এতে তার মুখমণ্ডলের বেশিরভাগ ঝলসে যায়। এরপর গত ২৭ মে চক্ষু প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি তার মুখমণ্ডলের অংশবিশেষ প্রতিস্থাপন করা হয়।
এ জটিল অপারেশনটি করেছেন এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথের চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার তারা জানান, ৪৬ বছর বয়সী জেমস সুস্থ হয়ে উঠছেন। তার প্রতিস্থাপিত বাম চোখ বেশ সুস্থ দেখাচ্ছে। তার ডান চোখ এখনও কাজ করছে। অপারেশনে নেতৃত্ব দেওয়া প্রধান সার্জন এডুয়ার্ডো রদ্রিগেজ এবিসি নিউজকে বলেন, এটিকে অনেকে অসম্ভব ভেবেছিলেন। আমরা দৃষ্টি পুনরুদ্ধারের জন্য নতুন মাইলফলকের পথ সৃষ্টির কাজ করছি।
প্রতিস্থাপন করা ওই ব্যক্তির চোখের রেটিনায় (চোখের যে অংশ মস্তিষ্কে ছবি পাঠায়) সরাসরি রক্তপ্রবাহ ছিল। প্রতিস্থাপন করা চোখে দৃষ্টিশক্তি ফেরার নিশ্চয়তা না থাকলেও সম্ভাবনাকে একদমই উড়িয়ে দেননি চিকিৎসকরা।
মন্তব্য করুন