

২০২৬ সাল শুরু হয়ে গেল। এখনই নিজের আর্থিক অবস্থার দিকে নতুন করে তাকানোর এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত পরিকল্পনা করার সেরা সময়। আপনি নতুন শুরু করুন বা আগেই আর্থিক যাত্রায় থাকুন- সঠিক প্রস্তুতি ও বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত আপনাকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে।
নিচে এমন ১০টি বাস্তব ও কার্যকর পরামর্শ দেওয়া হলো, যা আপনার অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে সাহায্য করবে।
ভালো বাজেটই আর্থিক সফলতার মূল চাবিকাঠি। আয়ের টাকা পরিকল্পনা করে ভাগ করুন। সহজ একটি নিয়ম হতে পারে ৭০-১০-১০-১০ নিয়ম:
৭০% — দৈনন্দিন খরচ (বাসা, খাবার, যাতায়াত)
১০% — সঞ্চয়
১০% — বিনিয়োগ
১০% — দান বা পরিবারের সহায়তা
খরচ লিখে রাখলে বুঝতে পারবেন কোথায় অপ্রয়োজনীয় টাকা চলে যাচ্ছে। বাজেট মানে কষ্ট করা নয়—বরং আপনার টাকাকে বুদ্ধি করে কাজে লাগানো।
টিপস: মোবাইল অ্যাপ বা খাতায় মাসিক খরচ লিখে রাখুন। bKash/Nagad স্টেটমেন্ট থেকেও হিসাব রাখা সহজ।
উচ্চ সুদের ঋণ (ক্রেডিট কার্ড, ব্যক্তিগত ঋণ) সম্পদ বাড়ানোর পথে বড় বাধা। আগে এগুলো শোধ করার চেষ্টা করুন।
দুটি জনপ্রিয় পদ্ধতি:
স্নোবল পদ্ধতি: ছোট ঋণ আগে শোধ
অ্যাভাল্যাঞ্চ পদ্ধতি: বেশি সুদের ঋণ আগে শোধ
টিপস: ক্রেডিট কার্ড থাকলে শুধু মিনিমাম পেমেন্ট না দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব পুরো বিল পরিশোধ করুন।
জীবনে হঠাৎ বিপদ আসতেই পারে। তাই কমপক্ষে ৩–৬ মাসের খরচের সমপরিমাণ টাকা আলাদা করে রাখুন।
ছোট অংক দিয়ে শুরু করুন, ধীরে ধীরে বাড়ান। মাসের শুরুতেই সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিন।
টিপস: আলাদা সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা DPS রাখতে পারেন, যেন জরুরি সময়ে ধার করতে না হয়।
বিনিয়োগ সম্পদ বাড়ানোর শক্তিশালী মাধ্যম, তবে আগে বেসিক বুঝে নেওয়া জরুরি। নতুনদের জন্য:
ব্যাংক সেভিংস
সঞ্চয়পত্র (Sanchayapatra)
DPS বা ফিক্সড ডিপোজিট
ঝুঁকি বুঝে ধীরে ধীরে শেয়ার বাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডে যেতে পারেন।
টিপস: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের আগে প্রশিক্ষণ নিন এবং কখনো ধার করে বিনিয়োগ করবেন না।
বীমা আপনাকে ও আপনার পরিবারকে সুরক্ষা দেয়। সময় সময় দেখে নিন—
লাইফ ইন্স্যুরেন্স
হেলথ ইন্স্যুরেন্স
আয় সুরক্ষা বীমা
অপ্রয়োজনীয় প্রিমিয়াম দিচ্ছেন কি না বা কভারেজ কম আছে কি না—এগুলো যাচাই করুন।
টিপস: বিভিন্ন কোম্পানির বীমা তুলনা করে নিন, শুধু পরিচিতজনের কথায় সিদ্ধান্ত নেবেন না।
রিটায়ারমেন্ট অনেক দূরের মনে হলেও, যত আগে শুরু করবেন তত ভালো।
নিয়মিত সঞ্চয় করুন
প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পেনশন স্কিম থাকলে খোঁজ রাখুন
টিপস: সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা PF/Gratuity ঠিকমতো পাচ্ছেন কি না যাচাই করুন।
আর্থিক দুনিয়া সবসময় বদলায়। তাই শেখা বন্ধ করবেন না।
বই পড়ুন
ইউটিউব বা বিশ্বস্ত ফাইন্যান্স ব্লগ ফলো করুন
মাসে অন্তত কয়েক ঘণ্টা সময় দিন
যত জানবেন, সিদ্ধান্ত নিতে তত আত্মবিশ্বাসী হবেন।
সব টাকা এক জায়গায় রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করুন:
ব্যাংক
শেয়ার
সঞ্চয়পত্র
ব্যবসা (যদি সম্ভব)
এতে ক্ষতির ঝুঁকি কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে লাভের সম্ভাবনা বাড়ে।
কর আপনার আয়ের বড় অংশ প্রভাবিত করে। তাই কর পরিকল্পনা খুব জরুরি।
কর স্ল্যাব জানুন
বৈধ কর ছাড়ের সুযোগ নিন
বিনিয়োগের মাধ্যমে কর কমানো যায়
টিপস: NBR-এর নিয়ম অনুযায়ী সঞ্চয়পত্র, লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও কিছু বিনিয়োগে কর ছাড় পাওয়া যায়।
সব সময় একা সব সামলানো কঠিন হতে পারে। অভিজ্ঞ ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার আপনাকে—
ব্যক্তিগত পরিকল্পনা বানাতে
ভুল সিদ্ধান্ত এড়াতে
নতুন সুযোগ খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারেন
টিপস: পরামর্শদাতা যেন বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ হন, এটা নিশ্চিত করুন।
নিজের অর্থের নিয়ন্ত্রণ নিজেই নিন। সম্পদ বাড়ানো খুব জটিল কিছু নয়। নিয়মিত ছোট ছোট সঠিক সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতে বড় ফল এনে দেয়। আজকের একটি ভালো অভ্যাসই আগামী দিনের নিরাপদ জীবন গড়ে তুলতে পারে।
আপনি যদি আপনার আর্থিক যাত্রাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে চান, সঠিক পরিকল্পনা ও সহায়তা নিতে দেরি করবেন না।
সূত্র : Holborn Assets Asia
মন্তব্য করুন