

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ২০২৫ সালের শুরুর দিকে ভারতের এক কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তবে তার দাবি, ভারতীয় ওই কূটনীতিকই তাকে বৈঠকটি গোপন রাখতে বলেছেন, এ জন্য এটি গোপন রাখা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) নিজের বাসভবনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির ওই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকটি হয়েছিল তার শরীরে বাইপাস সার্জারি হওয়ার পর।
জামায়াতের আমির রয়টার্সকে বলেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা যেমন প্রকাশ্যে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, ভারতীয় কূটনীতিক তেমনটি করেননি। ভারতীয় ওই কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখতে বলেছিলেন।
তিনি বলেন, তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছিলেন, ‘কেন? অনেক কূটনীতিক আমার কাছে এসেছিলেন এবং তা প্রকাশ করা হয়েছিল। সমস্যা কোথায়?’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সবার কাছে এবং একে অপরের কাছে উন্মুক্ত হতে হবে। আমাদের সম্পর্কোন্নয়ন ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। আমরা অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি স্থিতিশীল দেশ চাই। যদি দলগুলো একসঙ্গে আসে, তাহলে আমরা সবাই মিলে সরকার চালাব।’
জামায়াত আমিরের এই বক্তব্যের বিষয়ে রয়টার্স ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চেয়েছে। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ভারতের সরকারের একটি সূত্র বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে রয়টার্স শফিকুর রহমানের কাছে পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে একটি ভারসাম্যপূর্ণ উপায়ে সম্পর্ক বজায় রাখি। আমরা কখনো কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়ে আগ্রহী নই।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘ঢাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর শেখ হাসিনার ভারতে ধারাবাহিক অবস্থান একটি উদ্বেগের বিষয়, যেখানে তার পতনের পর থেকে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারত হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
আরও বলা হয়েছে, দলটির প্রধান জানিয়েছেন, ‘একসময় নিষিদ্ধ জামায়াতে ইসলামী আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে নিজেদের সবচেয়ে বেশি শক্তিমত্তা দেখাতে যাচ্ছে। দলটি একটি ঐক্যের সরকারে যোগ দেওয়ার বিষয়ে উন্মুক্ত রয়েছে এবং এ বিষয়ে বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে কথা বলেছে।’
দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের বিষয়ে রয়টার্সকে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কোনো ঐক্যের সরকারের জন্য দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান অবশ্যই একটি অভিন্ন এজেন্ডা হবে। যে দল সবচেয়ে বেশি আসন পাবে, সেই দল থেকে প্রধানমন্ত্রী হবেন। যদি জামায়াত সবচেয়ে বেশি আসন পায়, তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে দল।’
সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘জামায়াতকে নিয়ে কোনো সরকার গঠিত হলে সেই সরকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে ‘স্বস্তি বোধ’ করবে না।’
অবশ্য বুধবার রয়টার্সের সঙ্গে টেলিফোন কথোপকথনে জামায়াতের আমিরের অবস্থানের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি ‘এ বিষয়টিকে আর জটিল’ করতে চান না বলে উত্তর দেন।
মন্তব্য করুন