কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৪২ এএম
অনলাইন সংস্করণ

ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকাগুলো তুলনামূলক নিরাপদ?

প্রতীকী ছবি : সংগৃহীত
প্রতীকী ছবি : সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে যদি ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তবে ঢাকার প্রায় ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে এবং প্রাণহানি হতে পারে দুই লাখেরও বেশি মানুষের। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রকাশিত সাম্প্রতিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে এমনই ভয়াবহ চিত্র। এ তথ্য প্রকাশের পর রাজধানীবাসীর মধ্যে আবারও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

প্রশ্ন উঠছে—ঢাকায় কি কোনো নিরাপদ এলাকা আছে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন কিছুটা সহায়ক হলেও অনিয়ন্ত্রিত ভবন নির্মাণ, জলাশয় ভরাট ও অতিরিক্ত জনসংখ্যা শহরকে ভয়াবহ ঝুঁকিতে ফেলেছে। কোন এলাকা কতটা নিরাপদ তা বুঝতে হলে দুটি বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে—

১. এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন

২. এলাকার অবকাঠামোগত অবস্থান।

ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতারের মতে, ঢাকার উত্তর অংশে মধুপুরের লাল মাটি রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে শক্ত। তাই রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান, তেজগাঁওসহ লাল মাটির গঠনের এলাকাগুলো ভূতাত্ত্বিকভাবে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে শুধু মাটির গঠন দিয়ে ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায় না বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী। তার মতে, ভবনগুলো সঠিকভাবে পরীক্ষা না করা হলে কোন এলাকা নিরাপদ বা অনিরাপদ তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।

জলাশয় ভরাট করে গড়ে ওঠা আফতাবনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা নির্ভর করছে মাটি প্রস্তুতির ওপর। বিশেষজ্ঞরা জানান, এসব এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণের আগে ‘গ্রাউন্ড ইম্প্রুভমেন্ট টেকনিক’ প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক। মাটি যথাযথভাবে শক্ত না করলে ভূমিকম্পের সময় ভবন অতিরিক্ত দুলে ভেঙে পড়তে পারে।

মেক্সিকোর সান হুয়ানিকো শহরের উদাহরণ টেনে আনসারী বলেন, সেখানে মাটি ঠিকভাবে প্রস্তুত না করার কারণেই ১৯৮৫ সালের ভূমিকম্পে ৭০ শতাংশ ভবন ধসে পড়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার মতো নরম মাটির এলাকায় শুধু পাইলিং করেই ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না—মাটিকেও যথাযথভাবে দৃঢ় করতে হবে। নইলে দূরের ভূমিকম্প হলেও মাটির কম্পন ও ভবনের কম্পন মিলিত হয়ে বড় ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি করে।

সার্বিকভাবে, ঢাকার কিছু এলাকায় ভূতাত্ত্বিক সুবিধা থাকলেও ভবনের গুণগত মানই নিরাপত্তার মূল নির্ণায়ক। ভবন যাচাই ও সঠিক নির্মাণ ছাড়া রাজধানীর কোনো এলাকাকেই সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যাচ্ছে না। - সূত্র : বিবিসি বাংলা

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানের পরমাণু স্থাপনা নিয়ে ভয়ের তথ্য দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইউক্রেনের চিফ অব স্টাফকে সরিয়ে দিলেন জেলেনস্কি

উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া

হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখে যা জানালেন এনসিপির নেতারা

ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে নতুন ফিচার নিয়ে আসছে ইউটিউব

বিপিএল নিলাম থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো বিজয়সহ ১০ ক্রিকেটারের নাম

গণভোটে হ্যাঁ-না বান্ডেল প্রশ্ন, অন্য অপশন নেই : সিইসি

বিকাশ লতা ফুলের সৌন্দর্যে মেতেছে প্রকৃতি

লুটপাটকারীদের শাস্তি দিন : মির্জা ফখরুল 

২৪ ঘণ্টার মধ্যে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ

১০

খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন রাষ্ট্রপতি

১১

বিপিএল মাতাতে আসছেন বিশ্বকাপজয়ী বিধ্বংসী ব্যাটার

১২

আবারও ইসরায়েলে হামলার হুমকি

১৩

জীবনের গতিপথ বদলে দেওয়া এক অনুপ্রেরণার নাম খালেদা জিয়া : রাষ্ট্রদূত মুশফিক

১৪

নতুন লিজ নীতিমালায় / বিমানবন্দরের ঝুঁকি দেখছেন অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা

১৫

ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান

১৬

শক্তি বাড়িয়ে ৮৮ কিলোমিটার বেগে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’

১৭

ফরিদপুরে ১৪৪ ধারা জারি

১৮

রান্নাকে সহজ ও সুস্বাদু করার ৩ ট্রিকস

১৯

ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, বিএনপি এ নীতিতেই বিশ্বাসী : মনি

২০
X