

জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নেমেছেন প্রার্থীরা। এমন সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে একটি অডিও এসেছে। তাতে উঠে এসে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বের ইস্যুটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুত্ব করতে চায়। দেশটির এক কূটনীতিক কয়েকজন নারী সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানিয়েছেন। তাদের এ কথোপকথনের একটি অডিও সংবাদমাধ্যমটির হাতে আছে।
সংবাদমাধ্যমটি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জানিয়েছে, তাদের পাওয়া ওই অডিওতে মার্কিন কূটনীতিককে বলতে শোনা গেছে, বাংলাদেশ এখন ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকে গেছে। এ ছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন পাবে। এমন অবস্থায় তারা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চান। যে দল বেশ কয়েকবার— সর্বশেষ স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে নিষিদ্ধ হয়েছিল।
ঢাকাভিত্তিক ওই কূটনীতিক নারী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।
এ কূটনীতিক জানান, জামায়াত শরিয়াহ আইন চালু করলে এর পরের দিনই বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেছেন, তারা শুধু জামায়াত নয়, হেফাজতে ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গেও হয়তো যোগাযোগ করবেন।
তার ভাষ্য, আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক। বাংলাদেশের পুরো অর্থনীতি, যুক্তরাষ্ট্রে ২০ শতাংশ রপ্তানি—নির্ভর করে পোশাক শিল্পের ওপর। যদি বাংলাদেশ নারীদের বলে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারবেন না, তাদের বের করে দেয় এবং শরিয়াহ আইন চালু করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের আর কোনো অর্ডার নেওয়া হবে না। আর অর্ডার না থাকার মানে হলো বাংলাদেশের অর্থনীতিও থাকবে না।
কিন্তু জামায়াত শরিয়াহ আইন চালু করবে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জামায়াত এটি করবে না। কারণ দেশটিতে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এবং উচ্চশিক্ষিত অনেক লোক রয়েছে। আমরা তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেব শরিয়াহ আইন করলে কী হবে।’
ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মোনিকা শিই-র কাছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, এ আলোচনাটি হয়েছে গত ডিসেম্বরে। এটি নিয়মিত বৈঠকের অংশ ছিল। যেখানে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা কথাবার্তা বলেন। তবে এসব কথাবার্তা বাইরে প্রকাশ করা হয় না। এ ছাড়া ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে এটি কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান এ ব্যাপারে ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, ‘ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকের ব্যাপারে আমরা কোনো কথা বলি না।’
মন্তব্য করুন