

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশি দুই পরিবারের অন্তত ৯ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।
জানা গেছে, আহত দুই পরিবারের সদস্যরা লিভার ও কিডনির চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। তারা দিল্লির ম্যাক্স হসপিটাল ও অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (এইমস) চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, আহত বাংলাদেশি নাগরিকদের নাম-পরিচয় সম্পর্কে অবগত থাকলেও হাইকমিশন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করছে না।
তবে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্ঘটনার পরপরই ভারতীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সংকটময় এ সময়ে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছে হাইকমিশন।
বুধবার (৩ জুন) সকালে মালভিয়া নগরের মিকাসা ইন নামের পাঁচতলা একটি হোটেলে আগুন লাগে। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে হোটেলটির বেজমেন্টে অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলটিতে অবস্থানরত অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হতাহতদের বড় একটি অংশ বিদেশি নাগরিক, যাদের অনেকেই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে এসেছিলেন।
মালব্য নগর প্রশাসনের তথ্যমতে, এ ঘটনায় বাংলাদেশি দুই পরিবারের ৯ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর এবং তারা নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডে মোট ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৯ ভারতীয় নাগরিক, ৪ নাইজেরিয়ার নাগরিক, ২ মোজাম্বিকের নাগরিক এবং একজন করে লাইবেরিয়া ও উজবেকিস্তানের নাগরিক।
এ ছাড়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন নেপাল, ক্যামেরুন, কেনিয়া ও কিরগিজস্তানের দুজন করে নাগরিক, লাইবেরিয়ার তিনজন, নাইজেরিয়ার একজন এবং কাজাখস্তানের তিন নাগরিক। বাংলাদেশি আহতদের যুক্ত করলে মোট আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯ জন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দগ্ধ ও আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসাকালে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে তাদের সঙ্গে সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা ও সংক্রমণ প্রতিরোধের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে হতাহতদের পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশি নাগরিকদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।