

নতুন বাজেটে দেশে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার প্রসারে এবং জ্বালানি নির্ভর পরিবহনের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে এ খাতে ক্যাটাগরি অনুযায়ী আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা, শুল্ক-কর ছাড়, অব্যাহতি এবং মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে। এমনকি চার্জিং স্টেশনে শুল্ক একলাফে শূন্যে আনার প্রস্তাবনাও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করেন। প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী স্থানীয়ভাবে এর যন্ত্রাংশ উৎপাদনে বড় ধরনের শুল্ক-কর ছাড়ের প্রস্তাব করেন।
একই সঙ্গে ইলেকট্রিক বাইক উৎপাদন এবং দেশব্যাপী চার্জিং স্টেশন অবকাঠামো গড়ে তুলতেও শতভাগ পর্যন্ত কর মওকুফের প্রস্তাব এসেছে এবারের বাজেট প্রস্তাবনায়।
সংসদে অর্থমন্ত্রী, দেশে চার চাকা ও তিন চাকার বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের বডি তৈরি, ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং এবং এসেম্বলিংয়ের কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে মাত্র ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক ছাড়া অন্য সব প্রকার শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব করেন।
এছাড়াও যেসকল প্রতিষ্ঠান পার্টস সংযোজন ও পেইন্টিং কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কিছুটা কম মূল্য সংযোজন করবে, তাদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ছাড়া অন্যান্য সব প্রকার শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত ভ্যাট এবং অন্য সব প্রকার শুল্ক-করাদি হতে সম্পূর্ণ অব্যাহতি প্রদানের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই খাতকে টেকসই ভিত্তি দিতে উপরোক্ত সব রেয়াতি সুবিধা ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় ই-বাইক উৎপাদনে উৎসাহ প্রদানে এই বাজেটে দেশীয় ই-বাইক উৎপাদনকারী ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এই খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা স্থানীয়ভাবে পার্টস ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনে নিয়োজিত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানকেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা এই শিল্পে নতুন বিনিয়োগ টানতে ভূমিকা রাখবে।
এছাড়াও ইলেকট্রিক গাড়ির নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে চার্জিং স্টেশন ও ইলেকট্রিক গাড়ির চার্জার আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট করভার ৩৯.৭৫ শতাংশ হতে হ্রাস করে সরাসরি শূন্য (০) শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।