

বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণে কর্মীদের উৎসাহিত রাখতে রেমিট্যান্সে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা অব্যাহত রাখছে নবগঠিত বিএনপি সরকার। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বাজেট অধিবেশনের বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ নীতির ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আমরা প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা সুদৃঢ় করতে আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০২৬ জারি করেছি।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিক ও কর্মজীবীদের প্রতি যেকোনো প্রকার সহিংসতা বা যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি কার্যকর করা হবে। তাদের জন্য নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থা অধিকতর সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। এছাড়া সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত ও নারীর ব্যবস্থাপনায় পিঙ্ক বাস সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। এমনকি শিশু শ্রম বন্ধে ইতোমধ্যে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০ এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।’
আগামীর বাজেটে প্রবাসীদের অগ্রাধিকার তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ ও প্রবাসী বাংলাদেশী জনশক্তির সুরক্ষা ও কল্যাণে আমাদের সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রবাসী কর্মীদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার একটি বিশেষ প্রবাসী কার্ড প্রবর্তন করছে। প্রবাসী কল্যাণ সেবা, বীমা, ব্যাংকিং সুবিধা এবং জরুরি সহায়তার সাথে কার্ডটি সংযুক্ত করা হবে।
বিকল্প শ্রমবাজার হিসাবে আমরা রাশিয়া, পর্তুগাল, রোমানিয়া, ব্রাজিল, গ্রিস, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া- এই দেশগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আমরা আবারও মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের শ্রমবাজার খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’
আমির খসরু বলেন, আমাদের সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরের মাসেই প্রবাসীদের পাঠানো মাসিক রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ আমাদের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আমরা আশা করছি এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার প্রবাসি আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের ক্ষেত্রে ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা অব্যাহত রাখছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক শ্রম বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে অকুপেশন ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে। বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এমন খাতগুলোর জন্য খাতভিত্তিক কোর্স এবং পাঠ্যক্রম চালুর কাজ শুরু করেছি। বাজারভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম উন্নয়ন, সার্টিফিকেশন, অ্যাক্রেডিটেশন ও মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছি।