

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৬ সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং পানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্থানীয় সময় নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুল আওয়াল।
বক্তব্যে বাংলাদেশ একটি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের একটি দীর্ঘ ও গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার সর্বদা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জলবায়ু খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে।’
অধ্যাপক সোহাগ আওয়াল তার বক্তব্যে ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান কর্তৃক ঘোষিত ঐতিহাসিক ১৯ দফা সনদের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯ দফা সনদের মাধ্যমে তৃণমূল মানুষের শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আবাসন ও বস্ত্রের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণের একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছিলেন। কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ মানুষের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তার অন্যতম প্রধান ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি।’
বিএনপি সরকারের পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে সভায় জানানো হয়, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র—তারেক রহমানও এই খাল খনন কর্মসূচিকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। নদী, খাল ও সেচ ব্যবস্থার মধ্যে একটি শক্তিশালী ও টেকসই নেটওয়ার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
অধ্যাপক সোহাগ আওয়াল বলেন, ‘এই মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্যগুলো হলো- সেচ কাজের জন্য জলাধার বৃদ্ধি করা। প্রকৃতিবান্ধব উপায়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উন্নত করার মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহুরে মানুষের জন্য নিরাপদ পানীয় জলের সুনিশ্চিত ব্যবস্থা করা।’
প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক বক্তব্যে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প ‘তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে একে একটি জনমুখী প্রকল্প হিসেবে অভিহিত করেন। অধ্যাপক আউয়াল উল্লেখ করেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে (রংপুর অঞ্চল) পানি ব্যবস্থাপনা ও সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসডিজির মূল নীতি ‘কাউকে পেছনে ফেলে না যাওয়া’-কে ধারণ করে শুষ্ক মৌসুমে তৃণমূল স্তরের মানুষের জন্য নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
সবশেষে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের পানি সংকট স্থায়ীভাবে নিরসনের লক্ষ্যে আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টন নীতির দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্ব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জোরালো আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন বাংলাদেশি প্রতিনিধি।