কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৫:২৯ পিএম
আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৪, ০৫:৪০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘আইন মানুষের মনে স্বস্তি আনে, ভয়ংকর আশঙ্কাও জাগায়’

ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত
ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত

আইন মানুষের মনে স্বস্তি আনে, ভয়ংকর আশঙ্কাও জাগায় বলে মন্তব্য করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (৩ মার্চ) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় জামিন পাওয়ার পর এ মন্তব্য করেন তিনি।

ড. ইউনূস বলেন, সারা দুনিয়ার মানুষ লক্ষ্য করছে এই বিচারে কি হলো। আমরা যা যা করছি তা সবই তারা দেখছে। এই যে ঘটনাগুলো ঘটছে তার পক্ষে লিখুন, বিপক্ষে লিখুন কোনো অসুবিধা নাই। কিন্তু এটা রেকর্ডেড। জাতির ইতিহাসের একটা অংশ হয়ে যাবে। এটার জন্য কি আমরা গর্ববোধ করব, নাকি অপরাধবোধ করব? এ রকম একটা সন্তানকে এমন অপরাধে অপরাধী কেন করলাম? এগুলোর জবাব থেকে মুক্তি নাই।

তিনি বলেন, আপনারা আজকের এই ছবিটা তুলে রাখুন। দুর্নীতি দমন কমিশনের বটতলা আমরা সবাই। এটা ঐতিহাসিক একটা ছবি। এটা আজকে-কালকে পত্রপত্রিকায় বের হবে। কিন্তু এটা যুগ যুগ ধরে নানা বইতে প্রকাশিত হবে। আপনারা সেই ইতিহাসের সাক্ষী।

ড. ইউনূস বলেন, একজন নোবেল বিজয়ীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনেছে, জালিয়াতির অভিযোগ এনেছে, মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনেছে। আমি একা নই। আমরা আরও ৭ জন, যারা সারা জীবন কঠোর পরিশ্রম করেছে গরিব মানুষের জন্য। এরা কোনো চাকরি করতে এখানে আসে নাই। তারাও অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতির এবং মানি লন্ডারিংয়ের জন্য অভিযুক্ত।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আজকে এখানে উপস্থিত আছেন। আপনারা জন্ম-জন্মান্তর ধরে বলতে পারবেন যে, আমরা উপস্থিত ছিলাম সেখানে এবং কেন ছিলেন, কী হয়েছে সেগুলো আপনারা বর্ণনা করবেন। এটা আমার মুখ থেকে শোনার দরকার নেই। আপনারা যা নিজে মনে করবেন তা আপনার পরের প্রজন্মকে জানাবেন। আগের প্রজন্মকে জানাবেন। যারা এখানে উপস্থিত হয়নি তাদের জানাবেন। আইন মানুষের শুভ কামনা করে রচনা করা হয়। আইন মানুষের মনে স্বস্তি আনে, শান্তি আনে। আইন মানুষের মনে আশঙ্কাও জাগায়। ভয়ংকর শঙ্কা জাগায়। আইনকে আমরা কোনদিকে নিয়ে যাব সেটা সমাজের ইচ্ছা। সমাজ কীভাবে করতে চায়। আপনারাও ঠিক করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন আজ যে বিচারে বসল সেটা সঠিক কারণে হয়েছে কিনা, সঠিকভাবে হয়েছে কিনা। এটা আমার মুখের দিকে তাকানোর কোনো দরকার নাই। এটা আপনার মনে যা জাগে তাই করবেন।

ড. ইউনূস আরও বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েরা এগুলো স্কুলে পড়বে। তারা তো নোবেল পুরস্কারের কথা ভুলতে পারবে না। তখন তারা পড়বে তার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দেয়, মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ দেয়, জালিয়াতিতে দেয়; তখন তারা কনফিউশনে পড়ে যাবে। আসলটা কি! এটা কি মুখোশ নাকি আসল মানুষ। তারা একাই নাকি তাদের সাঙ্গপাঙ্গ আছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নকল পেট্রোল চেনার সহজ কিছু উপায়

তারেক রহমানের কাছে ভাই হত্যার বিচার দাবি

বাংলাদেশিদের জন্য ভিসায় বন্ড বাধ্যতামূলক করল যুক্তরাষ্ট্র  

মালয়েশিয়ায় নিউ ইয়ার ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

অবশেষে গ্রেপ্তার সেই সিরিয়াল কিলার, পুলিশ দিল লোমহর্ষক বর্ণনা

আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার অটোরিকশাচালকদের

টানা দুই আসরেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির ব্রাজিলের

বিদেশি নাগরিকত্বের অভিযোগ ভিত্তিহীন-গুজব : এম এ কাইয়ুম

আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল, এলাকায় মিষ্টি বিতরণ

আগামীতে বয়জ্যেষ্ঠদের আর নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার অনুরোধ মুন্নার

১০

সিইসিকে স্মারকলিপি / নির্বাচনকালীন সব পরীক্ষা স্থগিতের দাবি

১১

এবার মিথলজিক্যাল সিনেমায় অক্ষয় খান্না

১২

বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা কার্যত শূন্য!

১৩

শরীরের সবচেয়ে নোংরা অংশ কোনটি, জানলে অবাক হবেন

১৪

মহাসড়কে শতাধিক গ্যাস সিলিন্ডার, বিভাজকে থেঁতলানো লাশ

১৫

কিডনি ভালো না থাকলে শরীর যেভাবে সিগন্যাল দেয়

১৬

চানখাঁরপুলে হত্যা মামলার রায় মঙ্গলবার, সরাসরি সম্প্রচার হবে বিটিভিতে

১৭

বরিশালে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক সৈয়দা জুয়েলী

১৮

জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

১৯

দেশকে সমৃদ্ধির অর্থনীতিতে পরিণত করেছিলেন জিয়াউর রহমান : ফখরুল

২০
X