পুলিশের বাধায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রবেশ করতে না পেরে উত্তর গেইটের সড়কে গায়েবানা নামাজ আদায় করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। বুধবার (১৭ জুলাই) বিকালে গণতন্ত্রের মঞ্চের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিসহ নেতারা উত্তর গেইট দিয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদে ঢুকতে চাইলে পুলিশ গেইট বন্ধ করে রাখে। পরে তারা রাস্তার উপরে নামাজ আদায় করেন এবং তোপখানা রোড অভিমুখে মিছিল করেন।
গায়েবানা জানাজায় অংশ নেন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, ভাসানী অনুসারী পরিষদের শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাত কাইয়ুম, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, জাগপার রাশেদ প্রধান, জাসদের নাজমুল হক প্রধান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান প্রমুখ নেতারা। ইমামতি করেন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ক্বারি আবু তাহের।
এর আগে কোটাবিরোধী আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় যুগপৎ আন্দোলনের রাজনৈতিক দলগুলো ডাকে বুধবার ঢাকাসহ সারা দেশে এই গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি হয়। দুপুরে বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম মসজিদে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সহাস্রাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয় গায়েবানা জানাজায়।
গায়েবানা জানাজার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে সাকি বলেন, গতকাল যে নারকীয়ভাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপরে গুলি চালিয়ে পয়েন্ট লাইন থেকে সামনাসামনি থেকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হলো ছাত্রদের। আমরা আজকে বাংলাদেশের জনগণ, অভিভাবকরা, রাজনৈতিক দলসমূহ তাদের জন্য একটা গায়েবানা জানাজা পড়তে এসেছি, তাদের জন্য দোয়া করতে এসেছি। অথচ পুলিশ সেই গায়েবানা জানাজাও পড়তে দেয়নি। বাস্তবতা এটাই যে এই সরকার মানুষের একেবারে যে ন্যুনতম কর্তব্যগুলো সেগুলো তারা করতে দেবে না। ভয়ে আতঙ্কে অস্থির হয়ে তারা একদিকে ছাত্রদের গুলি করে করছে অন্যদিকে সমস্ত জনগণের ওপরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে। জনগণ এটা মানবে না।
তিনি বলেন, নৈতিক দিক থেকে, সমস্ত দিক থেকে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো অধিকার নেই। আমরা মনে করি, এই সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
সাকি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ন্যায়ের পক্ষে আছে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আছে। আমাদের লাখো কোটি ছাত্র সমাজ তাদের যে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন করছে আমরা সেই আন্দোলনের পাশে আছি, সমর্থনে আছি এবং আমরা তাদের উপরে যে অত্যাচার হচ্ছে সেই অত্যাচার থেকে ছাত্রদের বাঁচানোর জন্য, পুরো দেশ বাঁচানোর জন্য সমস্ত জনগনকে আমরা রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি। এই অত্যাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে এবং আমাদের ছাত্রসমাজের পাশে দাঁড়াতে হবে।
মন্তব্য করুন