আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে গুরুতর আহত অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে গেলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের নাক, কান, গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আসাদুর রহমান, নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মাহমুদুর রহমান নোমান, প্লাস্টিক সার্জন ডা. সোহান, ডা. জামশেদ আলী ও ডা. সাইফুল আলম বাদশাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক ও নেতাকর্মীরা।
ডা. রফিক নুরের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নুরের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
আইসিইউ থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. রফিক বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে আমরা নুরের ওপর হামলার ভিডিও দেখেছি। এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
নুরের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি জানান, নুরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার মস্তিষ্কে ও চোখে রক্তক্ষরণ হয়েছে, নাকের একটি হাড় ভেঙে গেছে। যে কোনো প্রয়োজনে নুর ও তার পরিবারের পাশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, লাঠির আঘাতে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নাক ও চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে।
তিনি বলেন, আহত অবস্থায় রাতে হাসপাতালে আনা হলে প্রথমে ক্যাজুয়ালটি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে দেখেন। সেখান থেকে তাকে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে (ওসেক) রাখা হয়। পরে রাতে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, রাতেই পাঁচ বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং তাদের পরামর্শে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রাতে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সকালেও মাথার সিটিস্ক্যান করানো হয়েছে। দেখা গেছে, তার মাথার হাড় ভেঙে গেছে। এ ছাড়া নাকের হাড় ও ডান চোয়ালের হাড়ও ভেঙে গেছে। মাথার ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে, তবে তা অতি সামান্য। তার চোখ-মুখ ফোলা রয়েছে। চোখেও রক্ত জমে আছে। তবে শরীরের অন্যান্য স্থানে কোথাও আঘাত দেখা যায়নি।
মন্তব্য করুন