শোকের মাস উপলক্ষে কুয়েত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জাতিসংঘ মানব বসতি কর্মসূচির (ইউএন-হ্যাবিট্যাট) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত রক্তদান কর্মসূচিতে ২ শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।
২৬ আগস্ট কুয়েতের জাবরিয়া ব্লাড ব্যাংকে এই রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত এবং শ্রীলঙ্কা দূতাবাসের প্রতিনিধি, ইউএনএইচ জিসিসি আঞ্চলিক অফিসের মিশন প্রধান, কুয়েতে কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা, ইউএনএইচ জিসিসি আঞ্চলিক অফিসের কর্মকর্তা, কুয়েত বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্য এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা।
রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধন করেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. আশিকুজ্জামান এবং ইউএনএইচ জিসিসি আঞ্চলিক অফিসের হেড অফ মিশন আমিরা এইচ আল হাসান।
স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালের সব শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. আশিকুজ্জামান বলেন, ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয় এবং পুরো আগস্ট মাসটিকে শোকের মাস হিসেবে পালন করা হয়। অন্যান্য ইভেন্টের মধ্যে, রক্তদান ক্যাম্পেইন আমাদের জাতির পিতাকে দেশে এবং বিদেশে শ্রদ্ধা জানানোর অন্যতম প্রধান উদ্যোগ।
পরে রাষ্ট্রদূত যৌথভাবে রক্তদান অভিযান পরিচালনায় সহায়তার জন্য জাতিসংঘ-হ্যাবিট্যাটের অফিসকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বাংলাদেশ কমিউনিটির রক্তদাতাদের অনুপ্রাণিত করার জন্য সব রাষ্ট্রদূত ও তাদের প্রতিনিধিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া কুয়েত জাবরিয়া ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে এবং উপস্থিত সবাইকে এই আয়োজনে আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। সেই সঙ্গে কুয়েতে অবস্থানরত সবার বাংলাদেশি নাগরিককে কুয়েত রাষ্ট্রের নিয়মকানুন মেনে চলার জন্য অনুরোধ করেন।
ইউএনএইচ জিসিসি আঞ্চলিক অফিসের হেড অফ মিশন আমিরা এইচ আল হাসান বলেন, এমন একটি যুগান্তকারী রক্তদান কর্মসূচি করতে পেরে আমরা গর্বিত। এটি আমাদের স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তোলার চলমান প্রচেষ্টার একটি অংশ। এই রক্তদান কর্মসূচি সংহতি, সহানুভূতি এবং যত্নের মূল্যবোধকে আলিঙ্গন করার একটি শক্তিশালী বিবৃতির প্রতীক। কুয়েত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির সহয়তায়, আমাদের এই উদ্যোগের লক্ষ্য মানবতার সেবায় সহযোগিতা ও সহানুভূতির মনোভাব গড়ে তোলা।
ক্যাম্পেইন চলাকালীন বাংলাদেশ কমিউনিটির দুই শতাধিক সদস্য স্বেচ্ছায় কুয়েত ব্লাড ব্যাংকে রক্তদান করেছেন। তিনি সব রাষ্ট্রদূত ও তাদের প্রতিনিধি, কুয়েত ব্লাড ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং কুয়েতে বাংলাদেশ কমিউনিটির সব অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
মন্তব্য করুন