

সম্প্রতি ফেসবুকে ‘হালালা সেন্টার’ নামে একটি কথিত প্রতিষ্ঠানের হিল্লা বিয়ের বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে শত শত মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য পাঠিয়েছিলেন। তবে বিয়ের প্রক্রিয়ার বদলে কয়েক দিন পর সামাজিক মাধ্যমে তাদের জীবনবৃত্তান্তসহ সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে তারা সামাজিকভাবে বিব্রত হওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন। আমার জানার বিষয় হলো, হিল্লা বিয়ে আসলে কী? ইসলামি শরিয়তে এর বিধান কী?
- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
উত্তর: কোনো নারীর তিন তালাক হয়ে গেলে সে তার স্বামীর জন্য আর জায়েজ থাকে না। এক্ষেত্রে বিধান হলো, যতক্ষণ না ওই নারীর আরেক স্থানে বিয়ে হয়; তারপর নতুন স্বামী তাকে তালাক দেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত প্রথম স্বামীর জন্য ওই নারী জায়েজ হয় না। তাই একজন ব্যক্তির কাছে তালাক দেওয়ার শর্তে তাকে বিয়ে দেওয়া হয়। তারপর ওই পুরুষ এক রাত ওই নারীর সাথে থেকে পরদিন তাকে তালাক দিয়ে দেন। তারপর প্রথম স্বামী ওই নারীকে আবার বিয়ে করে থাকে। এই হলো আমাদের সমাজে প্রচলিত হিল্লা বিয়ের ধরন।
এখানে দুটি প্রশ্ন আসে। প্রথমটি হলো, উপরিউক্ত পদ্ধতিটি জায়েজ কি না? আর দ্বিতীয়টি হলো, ওই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রথম স্বামীর জন্য ওই স্ত্রীলোকটির বিয়ে জায়েজ হয় কি না?
প্রথম প্রশ্নের জবাব
ইসলামে হিল্লা বিয়ে সম্পূর্ণ হারাম। যারা হিল্লে বিয়ে করে এবং যার জন্য করে, উভয়ের ওপর আল্লাহর অভিশাপ। হাদিস শরিফে হজরত ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হালালকারী, যার জন্য হালাল করা হলো এবং যাকে করা হলো, সবার ওপর আল্লাহর অভিশাপ (ইবনে আবী শাইবা: ১৭৩৬৪)।
দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাব
একটি বিষয় হারাম হওয়া মানে ওই হারাম কাজের মাধ্যমে সংঘটিত কাজটি সঠিক হয়নি— বিষয়টি এমন নয়। যেমন: জেনা করা হারাম, তাই বলে কি জেনা করলে জেনা হয়নি? কাউকে হত্যা করা হারাম, তাই বলে কি হত্যা করলে সেটিকে হত্যা বলা হবে না? তেমনইভাবে হিল্লা করা হারাম, কিন্তু এভাবে হিল্লা করলেও ওই স্ত্রীলোকটি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যায়। যা হাদিসটির শব্দ থেকেই পরিষ্কার।
হাদিসে লক্ষ্য করুন, শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে ‘হালালকারী’। যা পরিষ্কার বলছে, এর দ্বারা স্ত্রী লোকটি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হয়। যদি হালালই না হয়, তাহলে হিল্লাকারী লোকটি হালালকারী হয় কীভাবে? আর স্ত্রীলোকটিকে হাদিসে বলা হচ্ছে হালালকৃত। যদি সে হিল্লার মাধ্যমে প্রথম স্বামীর জন্য হালালই না হয়, তাহলে সে হালালকৃত হয় কীভাবে?
একইভাবে প্রথম স্বামীর জন্য হাদিসে শব্দ ব্যবহৃত হলো ‘যার জন্য হালাল করা হয়’। যা পরিষ্কার প্রমাণ করে এটি হারাম পদ্ধতি হলেও এর দ্বারা স্ত্রীলোকটি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যায়। যদি হালালই না হতো, তাহলে হাদিসে যার জন্য হালাল করা হয় বলার কী অর্থ থাকে?
সুতরাং হাদিস দ্বারাই পরিষ্কার বোঝা যায় যে, কাজটি হারাম হলেও এর দ্বারা ওই স্ত্রী লোকটি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হয়ে যায়। যদিও কাজটি অভিশাপযোগ্য এবং নিন্দনীয় ও বর্জনীয়।
উত্তর দিয়েছেন:
মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
পরিচালক, তালিমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট এন্ড রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা