

উচ্চাভিলাষী বাজেট দেশের অর্থনীতিকে চাপের মুখে ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে নগরীর সারদা হলে সিলেট জেলা ও মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত দায়িত্বশীল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফয়জুল করীম বলেন, দেশ বর্তমানে ঋণের ওপর নির্ভরশীল অবস্থায় রয়েছে এবং অর্থনীতি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। সরকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার একটি উচ্চাভিলাষী বাজেট ঘোষণা করেছে। এই বাজেটে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে সরকারকে সারা বছর দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করতে হবে। যা দেশের অর্থনীতিকে আরও চাপের মুখে ফেলবে ও অর্থনীতিকে আরও দুর্বল করবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে যা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। দেশে জনগণের ভাগ্য নিয়ে কাউকে আর ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না আর। এছাড়া শিশু রামিসা ও সিলেটের ৪ বছরের শিশু ফাহিমাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা পুরো জাতিকে ব্যথিত করেছে। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয় বরং প্রায়ই ঘটছে। একই সঙ্গে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপরাধও সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ঢোল, তবলা ও নৃত্য শেখানোর উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এছাড়া সীমান্তে ‘পুশইন’ ও হত্যাকাণ্ড সরকারের পররাষ্ট্রনীতির দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। এসব বন্ধে সরকারকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
চরমোনাই পীর বলেন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক ভালো নয় এবং দেশের ব্যাংক খাতও বর্তমানে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এত বড় আকারের বাজেট বাস্তবসম্মত নয়। বাজেট ঘোষণার আগেই দুই দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে। এর প্রভাব হিসেবে নিত্যপণ্যের মূল্যও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
মুফতি ফয়জুল করীম অভিযোগ করে বলেন, সরকার উন্নয়নের কথা বললেও চারিত্রিক ও নৈতিক উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে না। অথচ সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য নৈতিক ও চারিত্রিক উন্নয়ন অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মানুষের চারিত্রিক উৎকর্ষ ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে একটি আল্লাহভীরু ও আদর্শবান জাতি গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। এজন্য একদল প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও ত্যাগী নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন এবং নেতাকর্মীদের দেশ ও জাতির কল্যাণে নিবেদিত থাকার আহ্বান জানান।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর সভাপতি ডা. রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজের সভাপতিত্বে জেলা সেক্রেটারি হাফিজ মাওলানা ইমাদ উদ্দিন ও জয়েন্ট সেক্রেটারি মুফতি আবু তাহের মিসবাহর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান এলএলবি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আলহাজ নজীর আহমদ।
আরও বক্তব্য দেন— জেলা সভাপতি মুফতি সাঈদ আহমেদ, জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ সিলেট মহানগর সভাপতি হাফেজ মাওলানা আসাদ উদ্দিন, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম মহানগর সভাপতি প্রভাষক বুরহান উদ্দিন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, জেলা সভাপতি আলহাজ ফজলুল হক, ইসলামী যুব আন্দোলন সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা বদরুল হক, মহানগর সভাপতি মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগর সভাপতি মোহাম্মদ জাকাওয়াত হোসেন।