

বিপিএলের চলতি আসরে ইতোমধ্যেই ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। আগামী শুক্রবার সিলেট টাইটান্স অথবা রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মুখোমুখি হবে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের ফাইনাল খেলার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন শেখ মেহেদী। আসরের শুরু থেকেই ব্যাটে-বলে দারুণ সময় পার করছেন তিনি। নেতৃত্ব কিংবা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স– সবকিছুতেই দুর্দান্ত এই স্পিনিং অলরাউন্ডার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে ‘গরিবের সাকিব আল হাসান’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন অনেকেই।
বিপিএলের ফাইনালের টিকিট কাটার পর দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে যেন বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে। আলোচকদের অন্যতম একজন ইরফান শুক্কুর। মেহেদীকে গরিবের সাকিব আল হাসান বলা যায় কি না সেটা জানতে চেয়ে তো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্টও করেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটের এই পরিচিত মুখ। শুক্কুর লিখেছেন, ‘শেখ মেহেদী হাসানকে কি গরিবের সাকিব আল হাসান বলা যাবে? আমার হিসেবে দেশের সক্রিয় ক্রিকেটারদের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গি এবং মনোভাবের দিক থেকে মেহেদী একটু করে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তুলনা করা যায়।’
শুক্কুরের এই পোস্ট ঘিরে নেট দুনিয়ায় রীতিমতো ঝড় উঠে। কমেন্টের ঘরে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের মন্তব্যই করেছেন তার ভক্তরা। বিষয়টি নিয়ে হাস্যরসেরও সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনও। তবে তাকে গরিবের সাকিব আল হাসান বলা ঠিক না বলে মনে করেন চট্টগ্রামের পরামর্শক টিম ডিরেক্টর। সুমন বলেন, ‘না, ‘গরিব’ কথাটা বলাটা উচিত না। আমার মনে হয় মেহেদীকে কারও সঙ্গে তুলনা করা উচিত না। শেখ মেহেদী শেখ মেহেদী, সাকিব আল হাসান সাকিব আল হাসান। মেহেদী মেহেদীর জায়গা থেকে যেটা করছেন আমার মনে হয় সেটাতেই সন্তুষ্ট।’
বিপিএলে মেহেদী নিজের কাজটা করে যাচ্ছেন দারুণভাবে। প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে হারিয়ে সবার আগে ফাইনালে জায়গা করে নেয় তার দল। চট্টগ্রামকে শিরোপার মঞ্চে তুলতে বড় অবদান মেহেদীর। প্লে অফের মতো গতকাল মঙ্গলবারও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে দুর্দান্ত ছিলেন। ১৩৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে হারের শঙ্কা জেগেছিল চট্টগ্রাম শিবিরে। শেষ দিকে ৯ বলে ১৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দলকে জেতান মেহেদী। এর আগে বল হাতে নেন ২ উইকেট। দল জিতিয়ে ম্যাচসেরাও নির্বাচিত হন তিনি। এখন পর্যন্ত ৯ ইনিংসে ১৪৪.১৬ স্ট্রাইকরেটে ১৭৩ রান করেছেন মেহেদী। বল হাতে নিয়েছেন ১৫ উইকেট। ওভারপ্রতি খরচ করেছেন ৬.৭২ রান।
পাশাপাশি নেতৃত্বে তার কৌশলগত সিদ্ধান্তেও মুগ্ধ ভক্তরা। বোলিং পরিবর্তন কিংবা পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলছেন। সব মিলিয়ে এবারের বিপিএলে ভালোই প্রশংসা কুড়াচ্ছেন মেহেদী। মেহেদীর প্রশংসায় সুমন তাই পঞ্চমুখ। তিনি বলেন, ‘অসাধারণ! খুব ভালো করছে। বিশেষ করে বোলিং পরিবর্তনগুলো অসাধারণ। কখন কাকে ব্যবহার করতে হয়, যখন দ্বিতীয় পরিকল্পনায় যেতে হয় সেটাও খুব ভালোভাবে কার্যকর করেছে। সে দলটাকে খুব ভালোভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় জিনিস হলো যখন চাপের মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রেখেছে।’
বড় পর্যায়ে এবারই প্রথম অধিনায়কত্ব পেয়েছেন মেহেদী। আর প্রথম সুযোগেই বাজিমাত করেছেন। আরেকটি ভালো পারফরম্যান্স তার মাথায় এনে দিতে পারে সাফল্যের মুকুট। অধিনায়কত্ব কেমন উপভোগ করছেন? মেহেদী বলেন,‘আমি হয়তো বা কোনো ভালো ক্রিকেটে কখনো অধিনায়কত্ব করিনি। কিন্তু আমার একটা সুযোগ ছিল। বিগত বছরগুলোতে যে অভিজ্ঞতাগুলো হয়েছে, এটা আমি চেষ্টা করছি আমার মেধা থেকে করার জন্য। আমি জানি না কতটুকু আমি পূর্ণ করতে পারছি। ’’
তরুণ প্রতিভাবান এই ক্রিকেটার আরও বলেন, ‘জাতীয় দলে পঞ্চপান্ডব ছিল, আমি সবার অধীনে খেলেছি। সবার কাছ থেকে কিছু না কিছু নেওয়ার চেষ্টা করেছি। হয়তো বা তখন আমি অধিনায়কত্ব করিনি। কিন্তু ওই কিছু জিনিস আমার ভিতরে আমি আনার চেষ্টা করছি। এখন লিটনের অধিনায়কত্ব অসাধারণ। লিটনের কাছ থেকে অনেক কিছু আমি শিখি। সবার থেকেই কিছু না কিছু শিখে সেসব অভিজ্ঞতা মাঠে বাস্তবায়ন করতে পারছি।’
মন্তব্য করুন