

পরিষ্কার আকাশ আর ঝলমলে রোদের মধ্যে তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে টান টান উত্তেজনা। কয়েক হাজার মানুষ উৎকণ্ঠা আর বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে ছিলেন ওপরে; যেখানে খালি হাতে আকাশচুম্বী ভবনের দেয়াল বেয়ে উঠছিলেন বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী অ্যালেক্স হনোল্ড। খবর সিএনএনের।
রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটে বিশ্বের অন্যতম উঁচু ভবন তাইপে-১০১-এর চূড়ায় পৌঁছান হনোল্ড। ১ হাজার ৬৬৭ ফুট উচ্চতার এই ভবন বেয়ে উঠতে তার সময় লাগে ৯২ মিনিট। নিচে তখন ভক্ত-দর্শকদের করতালি আর উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
এই আরোহণে তিনি কোনো দড়ি বা সহায়ক সরঞ্জাম ব্যবহার করেননি। হাত পিচ্ছিল হওয়া ঠেকাতে তার সঙ্গে ছিল শুধু এক ব্যাগ চকের গুঁড়া। এর মাধ্যমে হনোল্ডই প্রথম ব্যক্তি হিসেবে খালি হাতে তাইপে-১০১ ভবন বেয়ে ওঠার নজির গড়লেন।
অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযানের পর সংবাদ সম্মেলনে হনোল্ড বলেন, এটা সত্যিই অসাধারণ। আমি নিশ্চিত, অনেক দিন এই আনন্দ আমার ভেতর জ্বলজ্বল করবে। অনুভূতিটা অবিশ্বাস্য।
নিজের অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, আপনি দীর্ঘদিন ভাববেন, এটা অসম্ভব। কিন্তু বাস্তবে যখন কাজটা করে ফেলবেন, তখনকার অনুভূতিটা একেবারেই আলাদা।
৪০ বছর বয়সী অ্যালেক্স হনোল্ড প্রায় দুই দশক ধরে পর্বতারোহণ জগতে এক পরিচিত নাম। তবে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত এল কেপিট্যান খালি হাতে বেয়ে উঠে তিনি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন। সেই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র ফ্রি সলো পরে পুরস্কারও জেতে।
হনোল্ড জানান, প্রায় এক দশক ধরেই তার লক্ষ্য ছিল তাইপে-১০১ ভবন বেয়ে ওঠা। শেষ পর্যন্ত নেটফ্লিক্সের সহায়তায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। যদিও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের এক দিন পর রোববার অভিযান শুরু করতে হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে ফরাসি পর্বতারোহী আলাঁ রবার্টও তাইপে-১০১ ভবনের দেয়াল বেয়ে উঠেছিলেন। তবে সে সময় তিনি রশির সহায়তা নিয়েছিলেন। এবার কোনো সুরক্ষা ছাড়াই সেই ভবন জয়ের মাধ্যমে ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় যোগ করলেন অ্যালেক্স হনোল্ড।
মন্তব্য করুন